সিলেট সংবাদদাতা : উন্নয়নের নামে বিগত ১৬ বছর জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে।
দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। আগামীতেও জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, উন্নয়নের নামে বিগত ১৬ বছর জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, ন্যায়বিচার, সততা, মানবিকতা ও সাম্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা সম্ভব, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
একজন হাজীকে সমাবেশস্থল থেকেই মঞ্চে ডেকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলেন, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, পৃথিবী, বেহেশত-দোযখ, সবকিছুর মালিক কে? তখন লাখো জনতা বলে ‘আল্লাহ’।
এরপর তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে, তারা বেহেশতের টিকিট দিয়ে দেয়। বলেন এটা কি ঠিক? এটা কি আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানি কিংবা শিরক নয়?
এছাড়া যুবসমাজ এবং নারী সমাজের উন্নয়ন এবং দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আবার নদীকানন হবে বাংলাদেশ, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে যুবসমাজ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে জনসভার মঞ্চে ওঠেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঞ্চে ওঠার সময় হাত তুলে সবাইকে অভিভাবদন জানান তিনি। হাজার হাজার নেতাকর্মীও তাকে হাত তুলে স্বাগত জানান। সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। এসময় স্লোগানে-স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আলিয়া মাদরাসা ময়দান।
এর আগে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভার কার্যক্রম।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দিন ধরেই বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বুধবার রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সভাস্থল।
তারেক রহমানের সফর ও জনসভাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
