শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
MENU
#
এক বছরে তিন ঈদ ও দুই হজ, মুসলমানদের জন্য বিরল অভিজ্ঞতার সুযোগ
daily-fulki

এক বছরে তিন ঈদ ও দুই হজ, মুসলমানদের জন্য বিরল অভিজ্ঞতার সুযোগ


স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামি বর্ষপঞ্জির চক্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ঘটতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। একই ইংরেজি বছরে একাধিক ঈদ উদযাপন এবং দুইবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন মুসলমানরা। এমন বিরল সময়চক্র তৈরি হচ্ছে হিজরি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে, যা ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক— উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বছরে তিনটি ঈদ এবং দুইবার হজ পালনের বিরল অভিজ্ঞতা পেতে যাচ্ছেন বিশ্বের মুসলমানরা। সে বছর পালিত হবে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি পৃথক হজ।


সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানান, এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটছে মূলত হিজরি (চন্দ্রবর্ষ) ও গ্রেগরিয়ান (সৌরবর্ষ) ক্যালেন্ডারের মধ্যকার সময়গত পার্থক্যের কারণে। ইসলামি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হবে। এটি হবে হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ, অর্থাৎ পবিত্র হজের সমাপ্তি দিবস ও কোরবানির ঈদ।


এরপর হিজরি বর্ষপঞ্জি পূর্ণ একটি চক্র সম্পন্ন করে আবারও একই ইংরেজি বছরের মধ্যেই ফিরে আসবে। ফলে ২০৩৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার হজ মৌসুম শেষ হবে এবং পালিত হবে আরেকটি ঈদুল আজহা, যা হবে হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজ। অর্থাৎ, একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুটি পৃথক হজ অনুষ্ঠিত হবে— যা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

এই দুই ঈদের আগে দুটি আলাদা আরাফার দিনও পালিত হবে। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন লাখো হাজি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন থাকেন।

এদিকে, এই দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সে বছর মুসলমানরা রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের মধ্য দিয়ে যাবেন।

চন্দ্রবর্ষের এই স্থানান্তরের প্রভাব শুধু ঈদ বা হজেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে— একবার জানুয়ারিতে এবং আরেকবার ডিসেম্বরে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে, প্রায় ৩৩ বছর আগে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এতে বছরে থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সূর্যভিত্তিক, যার দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণেই ইসলামী মাসগুলো প্রতি বছর ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে।

ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন বিরল পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন একই বছরে একাধিক রমজান, হজ কিংবা ঈদ একসঙ্গে দেখা যায়— যা ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উভয় দিক থেকেই কৌতূহলোদ্দীপক ও গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত