বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
MENU
#
ঢাকা-১৯ ও ২০ আসনে এনসিপিকে মনোনয়ন দেয়ায় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
daily-fulki

ঢাকা-১৯ ও ২০ আসনে এনসিপিকে মনোনয়ন দেয়ায় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া


স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটে ২৫৩টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৩০টি আসনে, যার দু’টি ঢাকা-১৯ আসন, সাভার ও ঢাকা-২০ আসন, ধামরাই। এই আসন দু’টিতে পূর্বঘোষিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন এর পরিবর্তে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল ও মাওলানা মো: আব্দুর রউফের পরিবর্তে এনসিপির নাবিলা তাসনিদকে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট।


শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৯ আসনে ১০ দলীয় ঐক্য জোটের ৪ দলের ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১৯ আসন, সাভারে ভোটের মাঠে জনপ্রিয় জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মাদ আফজাল হোসাইন সংগঠনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ।


একই অবস্থা ঢাকা-২০ আসন, ধামরাইয়ে। এছাড়া ধামরাইয়ে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপি’র নাবিলা তাসনিদের নাম প্রচারি হওয়ার পরদিনই উপজেলা ধূলিভিটায় এনসিপির কার্যালয়ে দলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের প্রার্থীকে ধামরাইয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এখানেও জোটের প্রার্থীর অবস্থা তেমন একটা ভালো না।


স্থানীয় ভোটারদের মতে, ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর শক্ত অবস্থান থাকলেও ভোটের মাঠে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন দলীয় তৎপরতায় ইতিমধ্যে অনেক ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

 অন্যদিকে এনসিপি মনোনীত দিলশানা পারুল এই আসনে একেবারেই নতুন মুখ। এছাড়া ছাত্র জীবনে তিনি বাম সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়া সে গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে শাহাবাগের আন্দোলনেও জামায়াত নেতাদের ফাঁসির দাবিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এসব কারণে জামায়াত ইসলামীসহ ইসলামী ভাবাপন্ন ব্যক্তিরা তার প্রতি আগ্রহভরে সমর্থন ব্যক্ত করবেন না। এছাড়া এই আসনে এনসিপির এই প্রার্থী ভোটের মাঠে একেবারেই দুর্বল বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।


জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, প্রার্থীতার বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে সাংগঠনিক কোনো নির্দেশনা পাইনি। যেহেতু ২০ তারিখ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন, তাই সংগঠনের নির্দেশনার অপেক্ষা করব। সংগঠনের প্রতি আমরা আনুগত্যশীল। সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোনোর চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। সবাইকে ধৈর্যধারণ করার পরামর্শও দেন তিনি।


এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রেখে বলেন, জেনে বুঝে আমার এ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। পার্টি থাকলে পলিটিক্স দাড়াবে। এনসিপির আত্মবিশ্বাসের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। এছাড়াও দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝর উঠেছে। জোটের এই সিদ্ধান্তের পর ঔড়ু অযসবফ নামে একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “ঢাকা ১৯ ও ২০ বিএনপি প্রার্থীকে অগ্রিম শুভেচ্ছা!”, 


জধুধঁষ ওংষধস অশধহফড় লিখেছেন, “ঢাকা-১৯ দারিপাল্লা ছাড়া অন্য কোনো মার্কা আসলে ভোট কেন্দ্রে জামু না, কেউ আনুগত্যের দোহাই দিতে আইসেন না দয়া করে।”। 


এছাড়াও ঘধযরফ অষ এড়হরস এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কমেন্টে লিখেছেন “এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।”, 


ঘধববস অনৎধৎ এ বিষয়ে কমেন্টে লিখেছেন, “এনসিপি প্রার্থীকে ১৯ আসনে ৯৯% মানুষ চিনেই না”,
ঔড়বিষ অযধসসবফ ঝড়ুধহ কমেন্টে লিখেছেন, ” ঘঈচ ভাইয়াদের বলবো তোমরা এখানে নির্বাচনে আসলে কোনো ফায়দা হবে না, তোমাদের বিন্দু মাত্র দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং মানবতাবোধ থাকলে দয়া করে জামায়াতে ইসলামীকে সাপোর্ট দেওয়া উচিৎ, দয়া করে সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করো”,
ঋড়ৎযধফ ঐড়ংংধরহ ঋধযরস কমেন্টে লিখেছেন, “ঢাকা ১৯ আর ২০ এ এনসিপির দুইজনেই হারবে, জামায়াতের একদম ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থীরা ভালোই ফাইট দিতে পারতো কিন্তু এখন আর কিছুই করতে পারবে না, ফলাফল একদম জিরো আসবে।”


বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসন নিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতবাক ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০ আসনের সর্বস্তরের জনগণ। দীর্ঘদিন ধরে নিজের নির্বাচনী প্রচারনা চালানোর পর জোটের এমন সিদ্ধান্তে জামায়াত প্রার্থীরা বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহবান জানালেও, তার ধৈর্য্যের প্রশংসা ও জোটের সিদ্ধান্তকে বিপদজনক বলে মন্তব্য করেছেন সাধারণ জনগণ।

 

সর্বাধিক পঠিত