শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
MENU
#
মুসলিম সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধ
daily-fulki

মুসলিম সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধ


ফুলকি ডেস্ক : ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের ধর্ম নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানবিকতা, সহানুভূতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধকে ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একজন মুসলিমের ঈমান কেবল তার নামাজ-রোজার মাধ্যমে নয়, বরং অপর মুসলিমের প্রতি তার আচরণ, সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য নীতিমালা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) হতে বর্ণিত।


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللهُ فِي حَاجَتِهِ وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

‘মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার উপর জুলুম করবে না এবং তাকে যালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে,আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন। যে কেউ তার মুসলিম ভাইয়ের বিপদ দুর করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন।


যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন। (বুখারি, হাদিস : ২৪৪২)
হাদিসের ব্যাখ্যা

এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম সমাজের ভিত্তিকে চারটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর দাঁড় করিয়েছেন—ভ্রাতৃত্ব, জুলুমবিরোধিতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানবিক মর্যাদা সংরক্ষণ।

প্রথমত, “মুসলিম মুসলিমের ভাই” এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি ঈমানের বন্ধনকে রক্তের সম্পর্কের চেয়েও গভীর ও শক্তিশালী করে তুলেছেন। এই ভ্রাতৃত্বের দাবি হলো, কোনো মুসলিম অপর মুসলিমের ওপর জুলুম করতে পারে না এবং অন্যের জুলুমের মুখে তাকে একা ফেলে দিতেও পারে না।


নীরব দর্শক হয়ে থাকা কিংবা অন্যায়ের কাছে তাকে সোপর্দ করাও এই ভ্রাতৃত্বের পরিপন্থী।
দ্বিতীয়ত, “অভাব পূরণের প্রতিশ্রুতি”। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাতে এগিয়ে আসে, আল্লাহ তাআলা নিজ দায়িত্বে তার প্রয়োজন পূরণ করেন। এটি দুনিয়াবি সহায়তার পাশাপাশি আখিরাতের কল্যাণেরও সুসংবাদ বহন করে।

তৃতীয়ত, “বিপদ দূর করার প্রতিদান”।


দুনিয়ার সামান্য বিপদ লাঘব করা কিয়ামতের ভয়াবহ দিনের বিপদ থেকে মুক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে বোঝা যায়, মানুষের কষ্ট লাঘব করা আল্লাহর কাছে কতটা প্রিয় আমল।
চতুর্থত, “দোষ গোপনের শিক্ষা”। ইসলাম মানুষের সম্মান ও মর্যাদাকে রক্ষা করতে চায়। কারো দোষ প্রকাশ করে তাকে অপমান করা নয়, বরং সংশোধনের নিয়তে দোষ আড়াল করাই ঈমানের পরিচয়। এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বান্দার এমন সব দোষ আড়াল করবেন, যা প্রকাশ পেলে তার ধ্বংস অনিবার্য হতো।

মোটকথা এই হাদিস মুসলিম সমাজকে এমন এক নৈতিক উচ্চতায় পৌঁছাতে আহ্বান জানায়, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি অপরের নিরাপত্তা, সম্মান ও কল্যাণের দায়িত্ব নিজ কাঁধে বহন করে—আর সেই সমাজের প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিশ্চিত হয়ে যায়।

সর্বাধিক পঠিত