বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
MENU
#
মানিকগঞ্জ-২ : হাইকোর্টের রায় প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে আব্দুল মান্নান নির্বাচনী মাঠে ফিরলেন
daily-fulki

মানিকগঞ্জ-২ : হাইকোর্টের রায় প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে আব্দুল মান্নান নির্বাচনী মাঠে ফিরলেন


সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : হাইকোর্টের রায়ে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার মধ্যদিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, মানিকগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নান। এই রায় শুধু একজন প্রার্থীর স্বস্তির বার্তা নয়, বরং মানিকগঞ্জ-২ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে হিসাব-নিকাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে এস এম আব্দুল মান্নানের পক্ষ থেকে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এরআগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্ট তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের আগের সিদ্ধান্ত কার্যত বাতিল হয়ে যায়।


ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। গত ৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করে এস এম আব্দুল মান্নানের মনোনয়ন বাতিল করেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত শুনানিতে কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এতে জাতীয় পার্টির স্থানীয় রাজনীতিতে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এস এম আব্দুল মান্নান।


হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলাম-এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে অনুষ্ঠিত শুনানিতে এস এম আব্দুল মান্নানের পক্ষে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটওয়ারী এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আহসান হাবিব ও সাদিয়া আফরীন শাপলাসহ অন্যান্য আইনজীবীরা অংশ নেন। উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের ফলে মানিকগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টি আবারও সংগঠিতভাবে নির্বাচনী মাঠে নামার সুযোগ পেল। এস এম আব্দুল মান্নান শুধু একজন প্রার্থী নন-তিনি এ আসনে পরিচিত মুখ এবং পরীক্ষিত রাজনীতিক। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টি তথা মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা এখনও একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে, তার প্রার্থিতা বাতিল থাকলে জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক ছত্রভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। হাইকোর্টের রায়ে সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এস এম আব্দুল মান্নান বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। উচ্চ আদালত আমার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন, এজন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আবারও সুযোগ পেলে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”


তার এই বক্তব্যে উন্নয়ন ও স্থিতিশীল রাজনীতির বার্তা স্পষ্ট, যা নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


সব মিলিয়ে বলা যায়, হাইকোর্টের এই রায় মানিকগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। আগামী দিনে মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে—সেদিকেই এখন দৃষ্টি স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের।
 

 

সর্বাধিক পঠিত