সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেননি : জামায়াত আমির
daily-fulki

পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেননি : জামায়াত আমির


স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘২৩ বছর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে চলেছি। সে সময়টা যারা পশ্চিম পাকিস্তানের ছিলেন, তারা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফ পূর্ণ আচরণ করেননি। এই ডেসপারেটির বিরুদ্ধেরই একটা নিরব দ্রোহ ছিল সত্তরের নির্বাচন। পরবর্তীতে এ নির্বাচনের হাত ধরেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, অসংখ্য জীবনদান, বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে পুনরায় দ্বিতীয় স্বাধীনতা বাংলাদেশের জন্ম।’


সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “চব্বিশের জটিল দিনগুলোয় সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে, এটা আমার এবং আমার দলের পারসেপশন, জাতি সিভিল ওয়ার থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগস্টের ৩, ৪ এবং ৫ তারিখ আপনারা যে ভূমিকা রেখেছেন, সেটা না রাখলে আজকে বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমি কথা বলতে পারতাম না।”

জামায়াত আমির আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সংগ্রামের পেছনে কোনো এক ব্যক্তিকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ধরা উচিত নয়। বরং পুরো জাতি, বিপ্লবী জনগণই ইতিহাসে মাস্টারমাইন্ড। তিনি বলেন, “আজ পর্যন্ত আমরা এ পরিবর্তন, বিপ্লব, গণঅভ্যুত্থান যে ভাষায় বলি, তার কোনো ক্রেডিট দল হিসেবে দাবি করি না। এখানে বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণ, সবাইমিলে আমরা মাস্টারমাইন্ড।”


তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্বেও জোর দেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটা নির্বাচন চাই, যেখানে ভোটার নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দেবে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। বিগত নির্বাচনের মতো কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা চাই না।”

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং পারস্পরিক আস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “১৯০ বছরের শোষণমূলক দাসত্বের জিঞ্জির ছিঁড়ে উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা কখনোই ন্যায্য আচরণ করেননি। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের নীরব প্রতিরোধই স্বাধীনতার প্রথম ধাপ। পরে, সত্তরের নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

সর্বাধিক পঠিত