বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
MENU
#
নাফ নদে মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা
daily-fulki

নাফ নদে মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা

টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২২) নামে এক যুবকের পা উড়ে গেছে। 

এ ঘটনার জেরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয় লোকজন। 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় হোয়াইক্যং সীমান্তে ‘শাহাজাহান দ্বীপে’ এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনার আগের দিন রোববার একই এলাকায় মিয়ানমারের ছোড়া গুলি বিদ্ধ হয়ে এক শিশুসহ দুইজন আহত হয়।

শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। 

মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবক টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ের লম্ববিল গ্রামের ফজল করিমের ছেলে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাছ ধরতে যাওয়া সীমান্তের নাফ নদে একজন যুবক মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছে খবর পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জেনেছি সীমান্তের কাছাকাছি কিছু জায়গায় ‘মাইন পুঁতে’ রাখার হয়েছে।

নির্দিষ্ট কোন জায়গায় রয়েছে-সেটি জানতে আমরা কাজ করছি। তবে আমরা স্থানীয় লোকজনকে সচেতন করছি যাতে, সীমান্তে ঘুরাঘুরি না করে।’   
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে আমরা টহল বৃদ্ধি করেছি। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি।

এদিকে মাইন বিস্ফোরণের খবরে টেকনাফ হোয়াইক্যং সড়কে বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি গুলিতে আহত শিশু হুফাইজা আফনানের চিকিৎসা-নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন করেছে। পরে খবর পেয়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিলের বাসিন্দা শাকিল বলেন, ‘সকালে আমরা মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত শিশু হুফাইজা আফনানের চিকিৎসাসহ স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার দাবিতে সরকারে সহযোগিতা চেয়ে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম। এসময় সীমান্তে নাফ নদে একজন জেলে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছে খবর আসে। এসময় স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে।

এভাবে নিরাপত্তাহীনতায় কীভাবে সীমান্তের মানুষ বসবাস করবে। যেকোনো সময় আমরা মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছি। আমরা শান্তি চাই, জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বাচঁতে চাই।’ 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘সীমান্তে এক জেলে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। এছাড়া হোয়াইক্যং সীমান্তের গোলাগুলির কারণে সীমান্তের বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। 

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বাংলাদেশ সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক সংঘাত চলছিল। মূলত রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলছে এই সংঘাত। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনীর হামলা। এমন পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত ছিলেন সীমান্তবাসী। এমন পরিস্থিতিতে রোববার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে এক শিশুসহ দুজন আহত হয়েছিল। এছাড়া সীমান্তের ওপারে সংঘাতের জেরে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সর্বাধিক পঠিত