স্টাফ রিপোর্টার : সাভার ও আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় ৩টি গার্মেন্ট কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাভার পৌর এলাকার রাজাশন ঈদগাহ এলাকায় এমটারনেট গার্মেন্ট কারখানায় দুইদিন ধরে শ্রমিক শ্রমিকদের বেতন ভাতা সঠিক সময়ে পরিশোধ না করায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা
দিয়েছে। শনিবার ও রবিবার (১১ জানুয়ারী) দুই দিন ধরে শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করেছে।
অপরদিকে আশুলিয়ায় দুটি গার্মেন্ট কারখানা বকেয়া বেতন পরিশোধ না করতে পেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। শনিবার সকালে কারখানা দুটির মুল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেন মালিকপক্ষ। যার ফলে শ্রমিকরা সকালে কারখানায় প্রবেশ করতে এসে বন্ধের নোটিশ দেখে বিক্ষোভ করে শ্রমিকগণ।
সাভারে এ্যামটারনেট কারখানার শ্রমিক রিদয় মিয়া জানান, তাদের কারখানায় সোয়েটার, সুয়িং,ওয়াশিং ও ইয়ার্ণ ডায়িং ডিভিশনে স্টাফ ও শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার মানুষ কাজ করেন। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন হওয়ার কথা থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে মালিক তা দিচ্ছেন না।
শনিবার কারখানার শ্রমিকরা ভেতরে প্রবেশ করে কাজ না করে সারাদিন বসে শুয়ে কাটিয়ে দেন। রবিবার তারা কাজে যোগদান না করে বেশ কয়েকটি মেশিন, সিসি ক্যামেরা ও দরজা জানালার গ্লাস ভাংচুর করে। শিল্প পুলিশ ও সাভার থানা পুলিশ সকাল থেকেই কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। শ্রমিকরা ৯ পারসেন্ট ইনক্রিমেন্ট ও বকেয়া বেতন দাবিতে মূল ফটক আটকিয়ে ভেতর থেকে বিক্ষোভ করে।
এক পর্যায়ে পুলিশ ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাধা প্রদান করা হয়। শেষ বিকেলে পুলিশ সদস্যরা মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে শ্রমিকদের আগামী ১৩ জানুয়ারি ও ২০ জানুয়ারি দুটি ধাপে বেতন পদানের আশ্বাস প্রদান করা হলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে।
শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, তাদের সাথে শ্রমিক ও মালিক পক্ষের কথা হচ্ছে। আশা করছি শ্রমিক অসন্তোষ দুর হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে কারখানার চেয়ারম্যান বদিউল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অপরদিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার একই মালিকের ক্রস ওয়্যার ও জিহান গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানা দুটি শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। বেতন ভাতা পরিশোধ না করে কারখানা দুটি বন্ধ ঘোষণা করায় প্রায় ১ হাজার ৫ শত শ্রমিক চরম বিপাকে পড়েছেন।
এবিষয়ে মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা দুটির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
