সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : শীত মানেই কেবল কুয়াশা আর কাঁপুনি নয়—শীত মানে অনেকের কাছে নীরব কষ্ট, অব্যক্ত বেদনা। ঘন কুয়াশার ভেতর যখন গরিব মানুষের রাত কাটে খোলা আকাশের নিচে কিংবা পাতলা কাপড়ে, তখন এক টুকরো উষ্ণতা হয়ে ওঠে জীবনের বড় আশ্রয়।ঠিক এমনই এক মানবিক প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে এলো মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় সিংগাইর উপজেলার জামসা ইউনিয়নের গোলাইডাঙ্গা–বাস্তা মোড়ে প্রবাসী কল্যাণ ট্রাস্ট বাস্তার নিজস্ব কার্যালয় প্রাঙ্গণে শীতার্ত দুস্থ, এতিম মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও নিম্নবিত্ত মানুষের মাঝে ৩০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।
কম্বল হাতে পেয়ে অনেকের চোখেমুখে ফুটে ওঠে প্রশান্তির ছাপ। কেউ কেউ নীরবে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরেন কম্বল—যেন সেটিই এই শীতের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
উপকারভোগী পিয়ার জান বলেন,“শীত আসলেই খুব কষ্ট হয়। এই কম্বল আমাদের জন্য অনেক বড় উপকার। এরা প্রতিবছর আমাদের কথা মনে রাখে।”
জয়তুন ও হাসেম আলীর কণ্ঠেও একই কৃতজ্ঞতা—“শুধু কম্বল না, অসুস্থ হলে টাকাপয়সা দিয়েও পাশে দাঁড়ায়। আল্লাহ যেন এদের ভালো রাখেন।”
এই মানবিক উদ্যোগে অর্থায়ন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সেলিম হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মোবারক হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। প্রবাসে থেকেও দেশের অসহায় মানুষের জন্য যাদের হৃদয় কাঁদে—এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইস্তাফিজুর মেম্বার।
তিনি বলেন,“সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতি ও মানবতা। প্রবাসী কল্যাণ ট্রাস্ট বাস্তা সেই কাজটিই করে যাচ্ছে।”
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য শওকত খান, হুমায়ূন রশিদ, আব্দুল হাই, নুরুল ইসলাম, মো. রাশেদুল, সোহরাব হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও সোলায়মানসহ আরও অনেকে।
স্থানীয়দের মতে, প্রবাসী কল্যাণ ট্রাস্ট বাস্তা শুধু একটি সংগঠন নয়—এটি অসহায় মানুষের ভরসার নাম। বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি ইতোমধ্যেই এলাকায় অর্জন করেছে আস্থা ও ভালোবাসা।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, মানবিক কার্যক্রম এখানেই থেমে থাকবে না। আগামীতেও তারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান—শীত, রোগ কিংবা যেকোনো দুর্যোগে।
শীতের সকালে বিতরণ করা সেই কম্বলগুলো শুধু শরীর নয়—উষ্ণ করেছে অনেক মানুষের মন। মানবিকতার এমন গল্পই সমাজকে এগিয়ে নেয়, তৈরি করে ভালোবাসার বন্ধন।
