স্টাফ রিপোর্টার : শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জিয়াউল আহসানের পক্ষে শুনানি করবেন তার বোন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজনিন নাহার। শুনানিতে তিনি ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন না করার আবেদন করবেন। একই সঙ্গে আসামির অব্যাহতি চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।
গত ৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ১০৩টি গুম ও হত্যাকাণ্ডের দায়ে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের আবেদন জানান।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগগুলো হলো—
প্রথম অভিযোগ:
২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা।
দ্বিতীয় অভিযোগ:
২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।
তৃতীয় অভিযোগ:
একই সময়কালে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যা।
এইসব হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং একই দিন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (NTMC)–এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
