বৃহস্পতিবার, 8 জানুয়ারী 2026
MENU
#
নবী অবমাননা থেকে জাতিগত ধ্বংস : কোরআনের এক অমোঘ সতর্কতা
daily-fulki

নবী অবমাননা থেকে জাতিগত ধ্বংস : কোরআনের এক অমোঘ সতর্কতা


ফুলকি ডেস্ক : কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

فَاِذَا جَآءَ وَعۡدُ اُوۡلٰىهُمَا بَعَثۡنَا عَلَیۡكُمۡ عِبَادًا لَّنَاۤ اُولِیۡ بَاۡسٍ شَدِیۡدٍ فَجَاسُوۡا خِلٰلَ الدِّیَارِ ؕ وَ كَانَ وَعۡدًا مَّفۡعُوۡلًا ﴿۵﴾

সরল অনুবাদ

(৫) অতঃপর এই দু-এর প্রথম প্রতিশ্রুত কাল যখন উপস্থিত হলো, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর রণ-কুশলী বীর দাসদেরকে; যারা ঘরে ঘরে প্রবেশ করে সমস্ত কিছু ধ্বংস করল; আর এ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হওয়ারই ছিল।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা বনি ইসরাঈলের আগের আয়াতেই বলা হয়েছিল যে, বনি ইসরাঈলেরা পৃথিবীতে দু-দুবার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। এই আয়াতে বলা হচ্ছে যে, তোমার করা সেই বিপর্যয়ের প্রথমটি যখন আসলো তখন তার বিপরীতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখানে সেই লাঞ্ছনা ও ধ্বংসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা ব্যাবিলনের (অগ্নিপূজক) শাসক বুখতে নাসরের (বা বুখতে নাসসারের) হাতে খ্রীষ্টপূর্ব প্রায় ছয়শ’ সালে জেরুজালেমে ইয়াহুদীদের ওপর আপতিত হয়েছিল।


নির্বিচারে ব্যাপকভাবে ইয়াহুদীদেরকে হত্যা করা হয়েছিল এবং বহু সংখ্যক ইয়াহুদীকে দাস বানানো হয়েয়েছিল। আর এটা তখন হয়েছিল, যখন বনি ইসরাঈল  তথা ইয়াহুদীরা আল্লাহর একজন নবী শা’য়া (আ.)-কে হত্যা অথবা আরমিয়া (আ.)-কে বন্দী করেছিল এবং তাওরাতের বিধি-বিধানকে অমান্য করে অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ে যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করার অপরাধ করেছিল। কেউ বলেন, বুখতে নাসরের পরিবর্তে মহান আল্লাহ জালূতকে শাস্তি স্বরূপ তাদের উপর আধিপত্য দান করেছিলেন। সে তাদের উপর সীমাহীন জুলুম ও অত্যাচারের রুলার চালিয়েছিল।


পরে ত্বালূতের নেতৃত্বে দাউদ (আ.) তাকে হত্যা করেছিলেন।
এই আয়াত থেকে বর্তমান উম্মতের জন্য কয়েকটি গভীর ও সময়োপযোগী শিক্ষা স্পষ্টভাবে উঠে আসে—

প্রথমত: আল্লাহর শাস্তি কেবল কাফিরদের জন্য নয়, অবাধ্য মুমিন জাতির জন্যও। বনি ইসরাঈল ছিল আল্লাহর মনোনীত জাতি; তাদের কাছে নবী, কিতাব ও শরিয়ত ছিল। তবু যখন তারা নবী হত্যা, কিতাব বিকৃতি ও সামাজিক ফাসাদে লিপ্ত হলো, তখন আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে নিজের “কঠোর রণ-কুশলী দাসদের” প্রেরণ করলেন।


এটি বর্তমান উম্মতের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা যে, ইমানের পরিচয় থাকলেই আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই নেই, যদি আমল ও নৈতিকতা নষ্ট হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: জমীনে ফাসাদ শাস্তিকে অনিবার্য করে তোলে। এই আয়াতে মূল অপরাধ হিসেবে উঠে এসেছে- “পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি”। আজকের উম্মতের মধ্যেও যদি জুলুম, দুর্নীতি, অন্যায় দখল, মিথ্যা, আমানত খেয়ানত ও নৈতিক অবক্ষয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি অস্বাভাবিক নয়। আল্লাহর সুন্নাহ (নীতি) কখনো বদলায় না।


তৃতীয়ত: আল্লাহ শাস্তির জন্য কখনো অমুসলিম শক্তিকেও ব্যবহার করেন।
বুখতে নাসর হোক বা জালূত; উভয়ই ছিল আল্লাহর শাস্তির হাতিয়ার। এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় যে, যদি মুসলিমরা নিজেরাই আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করে, তবে আল্লাহ তাদের শাস্তির জন্য অন্য জাতিকে ক্ষমতাবান করে তুলতে পারেন। ক্ষমতার পালাবদল অনেক সময় আসমানি বিচারের অংশ।

চতুর্থত: নবীদের অবমাননা ও দ্বীনের বিধান অমান্য করা জাতিগত ধ্বংস ডেকে আনে।
বনি ইসরাঈলের ওপর বিপর্যয়ের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল- নবীদের হত্যা, নবীদের বন্দি করা ও তাওরাতের বিধানকে অবজ্ঞা করা। আজ নবী হত্যা না হলেও, সুন্নাহকে তুচ্ছ করা, শরিয়াহকে ‘অচল’ বলা বা দ্বীনকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় নামিয়ে আনা; আত্মিকভাবে একই অপরাধের ভিন্ন রূপ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে যথাযথভাবে শরীয়তের বিধান বুঝে সেমতে জীবন ধারণ করার তাওফিক দান করুন। 

সর্বাধিক পঠিত