স্টাফ রিপোর্টার : দেশের মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান বৃত্তির সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ মাসিক ও এককালীন অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার একটি বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সম্প্রতি এই সমন্বিত প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, বর্তমানে ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে নির্ধারিত হারে শিক্ষার্থীদের যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদ্যমান ৪১ হাজার বৃত্তির সঙ্গে আরও নতুন ৮ হাজার ১৯২ জন শিক্ষার্থী যুক্ত হবে, যার ফলে মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৯ হাজার ১৫১ জনে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, উচ্চতর স্তরে বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি না করলে একটি অসামঞ্জস্য তৈরি হবে এবং আশা করা যাচ্ছে যে চলতি অর্থবছর থেকেই অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, এসএসসি পর্যায়ে বর্তমানে থাকা ২৫ হাজার ৫০০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৩০ হাজার ৬০০ জনে উন্নীত হবে। এই স্তরে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির মাসিক হার ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে বার্ষিক এককালীন অনুদানও দ্বিগুণ হবে। এর ফলে এসএসসি খাতে সরকারের দুই বছরে সম্ভাব্য ব্যয় ২৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৬২ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। মাউশি যুক্তি দিয়েছে যে, দীর্ঘ ৯ বছর পর জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিক্ষা উপকরণের দাম কয়েক গুণ বাড়ার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে এই আর্থিক সুবিধা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়েও একই ধরণের আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এইচএসসি পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৬০০ করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ৮২৫ টাকার বদলে ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির হার ৩৭৫ টাকার বদলে ৭৫০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, স্নাতক সম্মান পর্যায়ে বৃত্তির সংখ্যা ৪ হাজার ৬৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫৮০ এবং পাস কোর্সের জন্য ৩০৯ থেকে বাড়িয়ে ৩৭১ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্নাতক স্তরের ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার বর্তমানের ১ হাজার ১২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ২৫০ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইদুর রহমান জানিয়েছেন যে, প্রস্তাবটি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং দ্রুতই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
