সোমবার, 5 জানুয়ারী 2026
MENU
#
ঢাকায় বিএনপির ১৯ প্রার্থী আয় বেশি মির্জা আব্বাসের, নগদ টাকা দেওয়ান সালাউদ্দিনের, অস্থাবর সম্পত্তি তমিজউদ্দিনের
daily-fulki

ঢাকায় বিএনপির ১৯ প্রার্থী আয় বেশি মির্জা আব্বাসের, নগদ টাকা দেওয়ান সালাউদ্দিনের, অস্থাবর সম্পত্তি তমিজউদ্দিনের

ঢাকায় বিএনপির ১৯ প্রার্থী
আয় বেশি মির্জা আব্বাসের, নগদ টাকা দেওয়ান সালাউদ্দিনের, অস্থাবর সম্পত্তি তমিজউদ্দিনের
স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর ও জেলার ২০টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে বার্ষিক আয় সবচেয়ে বেশি মির্জা আব্বাসের। তাঁর বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এবার ঢাকা-৮ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
বার্ষিক আয়ে মির্জা আব্বাস এগিয়ে থাকলেও ঢাকায় বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে নগদ টাকা বেশি আছে ঢাকা-১৯ আসন, সাভারের বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। তাঁর কাছে নগদ ৩ কোটি ২০ লাখ ২৮ হাজার টাকা আছে।


নগদ ও ব্যাংকে জমা টাকাসহ অস্থাবর সম্পদের দিক থেকে সবার শীর্ষে রয়েছেন ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী তমিজ উদ্দিন। তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।


মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় বিএনপির প্রত্যেক প্রার্থী আয় ও সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এই প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে পেশা হিসেবে ‘ব্যবসার’ কথা উল্লেখ করেছেন ১৫ জন।


হলফনামায় পেশা হিসেবে রাজনীতির কথা বলেছেন ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে পেশা হিসেবে কৃষির কথা বলেছেন একজন। তিনি ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।


নিজের পেশা হিসেবে ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করেছেন ঢাকায় বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী সানজিদা ইসলাম। তিনি ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক তিনি।


এর বাইরে ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ পেশা হিসেবে শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ববি হাজ্জাজ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।
 

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১০ ধরনের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রার্থীর পেশা, আয়ের উৎস, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা-সংক্রান্ত তথ্য, প্রার্থীর নিজের ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের সম্পদ বিবরণী। হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া হলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এমনকি নির্বাচনে জয়ের পরও কারও ক্ষেত্রে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পেলে সংসদের মেয়াদ থাকা অবস্থায় তাঁর সদস্যপদ বাতিল করতে পারে কমিশন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের হলফনামা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।
 

ঢাকায় বিএনপির প্রার্থী কারা
 

ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২ আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ তানভীর আহমেদ, ঢাকা-৫ নবী উল্লা, ঢাকা-৬ ইশরাক হোসাইন, ঢাকা-৭ হামিদুর রহমান, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ হাবিবুর রশীদ, ঢাকা-১০ শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১১ এম এ কাইয়ুম, ঢাকা-১২ (নির্বাচনী সমঝোতার কারণে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি), ঢাকা-১৩ ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৪ সানজিদা ইসলাম, ঢাকা-১৫ শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৬ আমিনুল হক, ঢাকা-১৭ তারেক রহমান, ঢাকা-১৮ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা-১৯ দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন ও ঢাকা-২০ তমিজ উদ্দিন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
 

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় বিএনপির ১৯ প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে এম এ কাইয়ুম। তিনি পিএইচডি ডিগ্রিধারী। আর স্বশিক্ষিত প্রার্থী আছেন একজন, মো. নবী উল্লা।
 

শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অষ্টম শ্রেণি পাস উল্লেখ করেছেন একজন, শফিকুল ইসলাম খান।
অন্যদিকে মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) পাস করা প্রার্থী আছেন ৬ জন। মাধ্যমিক বা এসএসসি পাস করা প্রার্থী আছেন একজন। উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পাস করা প্রার্থী তিনজন। বাকিরা সবাই স্নাতক পাস।
 

আয়ে যাঁরা এগিয়ে
 

বিএনপির প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মির্জা আব্বাসের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ইশরাক হোসেনের। তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
বছরে ৫০ লাখের বেশি টাকা আয় করেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২। এর মধ্যে আমানউল্লাহ আমানের বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। আরেক প্রার্থী ঢাকা-২০ আসন, ধামরাইয়ের তমিজ উদ্দিনের বার্ষিক আয় ৫৩ লাখ ৬ হাজার টাকা।
 

বার্ষিক আয় সবচেয়ে কম সানজিদা ইসলামের। হলফনামায় তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বাকি প্রার্থীদের আয় বছরে ছয় লাখ টাকার বেশি।
 

নগদ টাকা ও ব্যাংকে জমা
 

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের হাতে নগদ রয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ ২৮ হাজার টাকা, যা ১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। হলফনামায় তিনি দেখিয়েছেন তাঁর কাছে নগদ ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা রয়েছে।
 

এর বাইরে এক কোটির বেশি নগদ টাকা রয়েছে চারজন প্রার্থীর কাছে। তাঁরা হলেন ববি হাজ্জাজ (১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা)। তমিজ উদ্দিন (১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা), হামিদুর রহমান (১ কোটি ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা) ও হাবিবুর রশিদ (১ কোটি ৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা)।
 

নগদ টাকা সবচেয়ে কম আছে শফিকুল ইসলাম খানের কাছে। হলফনামার বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর কাছে আছে নগদ ৩০ হাজার ২৫৭ টাকা।
 

অন্যদিকে ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি টাকা রয়েছে ইশরাক হোসেনের। ব্যাংকে তাঁর জমা টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আমিনুল হক। ব্যাংকে তাঁর নামে জমা আছে ১ কোটি ১৮ লাখ ১২ হাজার টাকা।
 

প্রার্থীদের মধ্যে হামিদুর রহমানের ব্যাংক হিসাবে জমা টাকার পরিমাণ সবচেয়ে কম। তিনি ব্যাংকে জমা রেখেছেন ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
 

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে কে এগিয়ে
 

নগদ ও ব্যাংকে জমা টাকাসহ অস্থাবর সম্পদের দিক থেকে সবার শীর্ষে রয়েছেন ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী তমিজ উদ্দিন। তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। এই হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
হলফনামায় সবচেয়ে কম অস্থাবর সম্পদ (নগদ ও ব্যাংকে জমা টাকাসহ) দেখিয়েছেন নবী উল্লাহ। তিনি হলফনামায় ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকার কথা উল্লেখ করেছেন।
স্থাবর সম্পদ
 

পুরান ঢাকার একটি আসনের (ঢাকা-৭) প্রার্থী হামিদুর রহমানের স্থাবর সম্পদ ১০ কোটি ৪১ লাখ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য)। এই সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪৩ কোটি ৮০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন এম এ কাইয়ুম। তাঁর স্থাবর সম্পদ ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তাঁর কাছাকাছি সম্পদ রয়েছে আমানউল্লাহ আমানের। তাঁর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ২১ লাখ টাকা।
 

ঢাকায় বিএনপির ১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম স্থাবর সম্পদ রয়েছে নবী উল্লাহর। তিনি হলফনামায় ২০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন।
আয়কর রিটার্ন
 

১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে আয়কর রিটার্নে সর্বোচ্চ ৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দেখিয়েছেন তমিজ উদ্দিন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্পদ দেখিয়েছেন মির্জা আব্বাস, ৫৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, সবচেয়ে কম সম্পদ নবী উল্লাহর, ৮৯ লাখ টাকা।
হলফনামায় ঢাকা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ নগদ টাকার ঘরে কিছুই লেখেননি।
 

দুই প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই


নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের হলফনামার কিছু অংশ (কয়েকটি পাতা) নেই। সে জন্য এই প্রার্থীর বার্ষিক আয়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। একই অবস্থা আরেক প্রার্থী ববি হাজ্জাজের ক্ষেত্রেও। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ববি হাজ্জাজের যে হলফনামা দেওয়া হয়েছে, সেখানে স্থাবর, অস্থাবর ও আয়কর রিটার্নের তথ্যের অংশ নেই।
সম্পদশালী স্ত্রী ও স্বামী


হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় বিএনপির প্রার্থীদের স্ত্রীদের মধ্যে আমানউল্লাহ আমানের স্ত্রী সাবেরা আমানের কাছে নগদ টাকা সবচেয়ে বেশি আছে। তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
নারী প্রার্থী সানজিদা ইসলামের স্বামী মোহাম্মদ জামাল আফসারের কাছে নগদ আছে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।


আরেক প্রার্থী শেখ রবিউল আলমের স্ত্রী বকুল আক্তারের কাছে নগদ টাকা সবচেয়ে কম আছে, ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।


প্রার্থী হাবিবুর রশীদের স্ত্রী মাবিয়া আক্তারের ব্যাংক হিসাবে সর্বোচ্চ ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা রয়েছে। প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগমের ব্যাংক হিসাবে ৩৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।


১৯ প্রার্থীর মধ্যে খন্দকার আবু আশফাকের স্ত্রী ইশমত সাকিয়ার ব্যাংক হিসাবে সবচেয়ে কম টাকা রয়েছে। তাঁর ব্যাংক হিসাবে আছে ৩ হাজার ৫০৭ টাকা।


প্রার্থীদের মধ্যে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের অস্থাবর সম্পদ বেশি। তাঁর সম্পদ ৩৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি।


আমানউল্লাহর স্ত্রী সাবেরা আমানের অস্থাবর সম্পদ ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। সবচেয়ে কম সম্পদ প্রার্থী নবী উল্লাহর স্ত্রী সুইটির। হলফনামায় তাঁর অস্থাবর সম্পদ ৫ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রার্থীর কাছে ৩৫ ভরি, স্ত্রীর কাছে ১২০ ভরি গয়না
হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রার্থীদের মধ্যে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না সবচেয়ে বেশি রয়েছে ববি হাজ্জাজের। তাঁর কাছে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে ৩৫ ভরি। তাঁর স্ত্রী রাশনা ইমামের কাছে রয়েছে ১২০ ভরি গয়না (সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু)।


ঢাকায় বিএনপির আরেক প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন হলফনামায় তাঁর নিজের নামে ২০ ভরি সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকার কাছে রয়েছে ৮০ ভরি সোনাসহ মূল্যবান ধাতুর গয়না।
 

সর্বাধিক পঠিত