সোমবার, 5 জানুয়ারী 2026
MENU
#
মানিকগঞ্জে সংযোগ সড়কের অভাবে ৪২ কোটি টাকার সেতু অকেজো
daily-fulki

মানিকগঞ্জে সংযোগ সড়কের অভাবে ৪২ কোটি টাকার সেতু অকেজো



মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর ওপর ৩৬৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হয় তিন বছর আগে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘদিনেও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ) না হওয়ায় ৪২ দশমিক ৩৪ কোটি টাকায় নির্মিত সেতুটি আজ অকেজো। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সেতুর দুই প্রান্তের অন্তত ৩০ গ্রামের মানুষ।

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।


এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই নদীর খেয়া পার হচ্ছে দুই পাড়ের অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ। এ সেতু চালু হলে জেলা সদরের সঙ্গে ঘিওর উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। 
সংযোগ সড়ক না হওয়ায় পূর্ব পাড়ের লোকজন ঘিওর উপজেলা সদরে ও আশপাশের এলাকা এবং পশ্চিম পাড়ের লোকজন জেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এ ছাড়া দুই পাড়ের মানুষ হেঁটে খেয়াঘাটে গিয়ে নৌকায় নদী পার হচ্ছে।


রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানবাহনও খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছে। 
এলাকাবাসীর মতে, যোগাযোগ সহজ করার পরিবর্তে, সেতুটি এখন হতাশার প্রতীক। তারা জানায়, ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে ফেরি নৌকায় করে কালীগঙ্গা নদী পার হয়, অন্যদিকে মোটরসাইকেল, ভ্যান এবং রিকশা একে একে নদী পার করা হয়।

তারা আরো জানান, কয়েক মিনিটের রাস্তা এখন কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।


প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত ভ্রমণ করতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেতু সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে এই বিলম্ব হয়েছে। অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য প্রায় ৬.২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ১২.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণে বিলম্বের কারণে জমির মালিকরা তাদের জমির দখল হস্তান্তর করেননি, যার ফলে নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, সেতুটি তিন বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে।


মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম খোরশেদ আলম বলেন, জমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঠিকাদাররা সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে পারছেন না, তবে প্রক্রিয়াটি প্রায় শেষের দিকে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হলে, অবিলম্বে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী বলেন, জমি অধিগ্রহণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যেই নোটিশ জারি করা হয়েছে। আমরা ৭১ জন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিককে চিহ্নিত করেছি। নয়জন ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন এবং আবেদনপত্র পাওয়ার পর বাকিদের চেক দেওয়া হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত