স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০টি আসনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই হওয়া পাঁচটি আসনে ১২ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসন।
এই পাঁচটি আসনের ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে বৈধভাবে গৃহীত হয়েছে ৩০ জন। বাকি ১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন স্বাক্ষর জটিলতার কারণে স্থগিত রয়েছে। অন্যটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা প্রার্থীদের মধ্যে, ঢাকা-১ আসনের ২ জন, ঢাকা-২ আসনে ১ জন, ঢাকা-৩ আসনে ৮ জন, ঢাকা-১৯ আসনে ১ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যাচাই-বাছাই হওয়ার পাঁচ আসনের মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকার ২০ আসনের কোনও মনোনয়ন বাতিল হয়নি।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) বরাবর আপিল করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম।
দলভিত্তিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল হক এবং ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নূরুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাতিল হওয়া মোট ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই স্বতন্ত্র।
ঢাকা-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন সাতজন প্রার্থী। এরমধ্যে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে পাঁচজনের মনোনয়ন। তারা হলেন, বিএনপির খন্দকার আবু আশফাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিশের ফরহাদ হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির শেখ মোহাম্মদ আলী। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা হুদা রয়েছেন।
ঢাকা-২ আসনে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হলেও বিএনপির আমানউল্লাহ আমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা-৩ আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরমধ্যে বিএনপি মনোনীত গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহিনুর ইসলামসহ আটজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। ঋণখেলাপিসহ এক শতাংশ ভোটারের তথ্যের গরমিলের অভিযোগে বাকি আটজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া আটজনের মধ্যে সাতজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
তারা হলেন, মনির হোসেন, রেজাউল কবীর, মোজাদ্দেন আলী, নাজিম উদ্দিন, পারুল মোল্লা, মো. বেলাল হোসেন ও রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।
ঢাকা-১৯ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ১০ জন দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার মো. রেজাউল করিম। একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হারুনূর রশীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, তার এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় ১০ জন ভোটারের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই পাওয়া যায়নি এবং হলফনামা দাখিল করা হয়নি। ঢাকা-১৯ আসনে বৈধ মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর মো. আফজাল হোসাইন, জাতীয় পার্টির মো. বাহাদুর ইসলাম, এনসিপির দিলশানা পারভীন, গণঅধিকারের শেখ শওকত হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইসরাফিল ইসলাম সাভারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ফারুখ খান, খেলাফত মজলিশের একেএম এনামুল হক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল এবং এনডিপির চৌধুরী হাসান সোরোয়ার্দী।
ঢাকা-২০ আসনে একমাত্র সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন, জাতীয় পার্টির আহসান খান, এনসিপির নাবিলা তাসনিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুর রউফ, খেলাফত মজলিশের আশরাফ আলী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আরজু মিয়া।
এরআগে গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. রেজাউল করিম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসক জানান, ঢাকা-১ আসনে ৮ জন, ঢাকা-২ আসনে ৩ জন, ঢাকা-৩ আসনে ১৬ জন, ঢাকা-১৯ আসনে ১১ জন এবং ঢাকা-২০ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এরআগে গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। পরে ১৮ ডিসেম্বর সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
