স্টাফ রিপোর্টার : শীতকাল এলেই তাপমাত্রা কমে যায়, বাতাসে আর্দ্রতা হ্রাস পায় এবং পরিবেশ হয়ে ওঠে শুষ্ক। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে। তবে বড়দের তুলনায় শিশুদের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় শীতকালে তাদের ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে খসখসে ভাব, টান ধরা কিংবা চুলকানির মতো সমস্যাও দেখা দেয়।
কেন শীতে শিশুদের ত্বক বেশি শুষ্ক হয়?
ডার্মাটোলজিস্ট ও কসমেটিক সার্জন বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্টরা জানান, শিশুদের ত্বক খুবই পাতলা ও সংবেদনশীল। শীতের বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বক দ্রুত পানি হারায়। এ ছাড়া গোসলের পর নিয়মিত বা সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলে ত্বকের শুষ্কতা আরও বেড়ে যায়।
শীতকালে যেসব অভ্যাস ত্বকের ক্ষতি করে
অনেক অভিভাবক শীতে শিশুদের আরাম দিতে গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল করান। কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল তুলে নেয়, যা ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে। আবার ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে অতিরিক্ত কাপড় পরানো হলেও ত্বকে ঘর্ষণ ও জ্বালার সৃষ্টি হয়। ঘর গরম রাখতে হিটার বা ব্লোয়ার ব্যবহার করলে বাতাস আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে, ফলে ত্বক টানটান, খসখসে কিংবা চুলকানিযুক্ত হতে পারে।
শিশুর ত্বক সুরক্ষায় করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে শিশুর গোসলের সময় হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা উচিত এবং গোসলের সময়সীমা ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে রাখা ভালো। গোসলের পরপরই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়। শিশুকে হালকা, শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য এবং ১০০ শতাংশ কটনের পোশাক পরানো ত্বকের জন্য নিরাপদ। পাশাপাশি ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখতে কুল-মিস্ট হিউমিডিফায়ার ব্যবহার উপকারী।
আধুনিক প্যারেন্টিংয়ে কী করছেন অভিভাবকরা?
বেবিকেয়ার ব্র্যান্ড Cutestory-এর প্রতিষ্ঠাতা জানান, বর্তমানে অভিভাবকরা শিশুর ত্বক সুরক্ষায় আরও সচেতন হচ্ছেন। তারা ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি ও pH-নিউট্রাল ক্লিনজার ব্যবহার করছেন, গোসলের সময় কমিয়ে এনেছেন এবং নরম কটনের পোশাককে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। পাশাপাশি ঘরের আর্দ্রতা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হিউমিডিফায়ারের ব্যবহারও বাড়ছে, যা ত্বক থেকে পানি ক্ষয় রোধে সহায়তা করে।
শীতকালে একটু বাড়তি যত্ন নিলেই শিশুর ত্বক থাকবে সুস্থ, নরম ও সুরক্ষিত।
