ফুলকি ডেস্ক : শক্তিশালী ভূমিকম্পে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে কেঁপে ওঠে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল। এতে সড়ক, ঘরবাড়ি ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় নতুন বছরের দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবামের প্রথম সংবাদ সম্মেলন চলছিল, যা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলবর্তী গুয়েরেরো রাজ্যের কাছে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের প্রভাব রাজধানী মেক্সিকো সিটিতেও অনুভূত হয়, যা উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ১৮০ মাইল দূরে।
ভূমিকম্পের সময় রাজধানীর ঐতিহাসিক ‘অ্যাঞ্জেল অব ইন্ডিপেনডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভ দুলতে দেখা গেছে। সকাল ৮টার কিছু আগে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতেই আতঙ্কিত মানুষজন পাজামা ও তোয়ালে পরা অবস্থায় পোষা প্রাণীসহ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
গুয়েরেরো রাজ্যের গভর্নর এভেলিন সালগাদো জানান, ভূমিকম্পে একটি বাড়ি ধসে পড়ে ৫০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, মেক্সিকো সিটিতে ভবন থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গুয়েরেরো রাজ্যে ভূমিধস, গ্যাস লিক এবং বহু বাড়ি ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পর্যটননির্ভর শহর আকাপুলকোও ক্ষতির মুখে পড়েছে, যা এখনও ২০২৩ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি।
মেক্সিকোর ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত মোট ৪২০টি পরাঘাত (আফটারশক) রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৪.৭।
মেক্সিকোর বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলকোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
