শুক্রবার, 2 জানুয়ারী 2026
MENU
#
নতুন বছর বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক মাধ্যমিকের ৬ কোটি বই বাকি
daily-fulki

নতুন বছর বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক মাধ্যমিকের ৬ কোটি বই বাকি


স্টাফ রিপোর্টার : বছরের প্রথম দিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে আজ বৃহস্পতিবার নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ বই তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মাধ্যমিকে এ পর্যন্ত ৭০ শতাংশ বইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ছয় কোটি বইয়ের কাজ এখনো বাকি।


তবে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির সব বই পৌঁছে গেছে। তাদের সবাই বছরের প্রথম দিনই বই পাবে।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষেও বছরের প্রথম দিন সব নতুন বই দেওয়ার রীতিতে ছেদ পড়ে। সব শিক্ষার্থীর বই পেতে মার্চ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।


তবে এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বই উৎসব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা স্কুলে এলে তাদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে। এমনকি শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার কোনো স্কুলে পরিদর্শনেও যাবেন না। কোনো শিক্ষার্থীর হাতে বইও তুলে দেবেন না।


তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজ রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নালন্দা ছায়ানট স্কুলে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে প্রায় ৯ কোটি এবং মাধ্যমিক ও ইবতেদায়িতে প্রায় ২১ কোটি বই ছাপা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির শতভাগ বই ছাপা শেষ হয়েছে এবং স্কুলগুলোতে তা পৌঁছে গেছে। তবে মাধ্যমিকে এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ বইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে এখনো ছয় কোটি বইয়ের কাজ বাকি।


এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলেছেন, এ বছর বইয়ের মানের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ নজর দিয়েছি। ফলে অনেক বই ছাপা হওয়ার পরও সেগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক প্রেসকে আমরা নতুন করে ভালো মানের কাগজ কিনতে বাধ্য করেছি। শতভাগ মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ভালো মানের বই পাবে শিক্ষার্থীরা। মান যাচাইয়ে কঠোর হওয়ার কারণেও বই ছাপার কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। নয়তো এত দিনে আরো বইয়ের কাজ শেষ হয়ে যেত।

সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের পুনঃদরপত্র আহবান করা হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য পুনঃদরপত্র আহবান করা হয় ২ সেপ্টেম্বর, সপ্তম শ্রেণির জন্য ৩ সেপ্টেম্বর এবং অষ্টম শ্রেণির জন্য পুনঃদরপত্র আহবান করা হয় ৪ সেপ্টেম্বর। সব প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনসিটিবির চুক্তিপত্রের শেষ সময় ছিল ৪ ডিসেম্বর। তবে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান এর আগেই চুক্তিপত্র শেষ করে। ফলে তারা এরই মধ্যে তাদের শতভাগ বই সরবরাহ করেছে। তবে সক্ষমতার অতিরিক্ত কাজ নেওয়া কিছু প্রতিষ্ঠান একেবারে শেষ সময়ে চুক্তি করে। তারা এখনো তাদের সব বইয়ের কাজ শেষ করতে পারেনি।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির শতভাগ বইয়ের কাজ বেশ আগেই শেষ হয়েছে। মাধ্যমিকে যেহেতু ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই মুদ্রণে পুনঃদরপত্র হয়েছে, তাই আমরা চেষ্টা করেছি ষষ্ঠ ও নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের কাজ আগে শেষ করতে। ফলে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কিছু বইয়ের কাজ বাকি আছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বইয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা আমরা ঠিক করেছি।’

জানা যায়, দরপত্র শেষে প্রেস মালিকরা কার্যাদেশ পেলেও সর্বশেষ প্রক্রিয়া হিসেবে এনসিটিবির সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। চুক্তির দিন থেকে কাজ শেষের সময় ৫০ দিন। সেই হিসাবে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের কাজ শেষ করার জন্য প্রেস মালিকরা ২২ জানুয়ারির পর্যন্ত সময় পাবেন। তবে এর আগেই এনসিটিবি সব বইয়ের কাজ শেষ করতে চায়।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চুতর্থ ও পঞ্চম) বই মুদ্রণ ও সরবরাহের শেষ তারিখ ছিল ৪ জানুয়ারি। কিন্তু মুদ্রণ শেষে মোট বই বিজয় দিবসের আগে ১৫ ডিসেম্বর দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে আজ ১ জানুয়ারি সব প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তর, ব্রেইল পদ্ধতির সব পাঠ্যপুস্তক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষায় মুদ্রিত শতভাগ পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা।

পাঠ্যবই অনলাইনে অবমুক্ত : নতুন বছর শুরু হওয়ার আগেই ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সব স্তরের পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ (পিডিএফ) উন্মুক্ত করেছে এনসিটিবি। গত রবিবার শিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এনসিটিবি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এনসিটিবির ওয়েবসাইটে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ব্রেইল পদ্ধতি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনে যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেন, ‘মূলত শিক্ষা কার্যক্রম চলতি জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শুরু হবে। এর আগেই প্রায় শতভাগ বই পৌঁছে যাবে। বইয়ের মানের ক্ষেত্রে এবার আমরা কোনো ছাড় দিইনি। এ বছর পুনঃদরপত্র করতে হয়েছে, নির্ভুল করার জন্য সময় লেগেছে। এসব সমস্যা না হলে ডিসেম্বরের ৫-৭ তারিখের মধ্যে বই পৌঁছে দিতে পারতাম। তবে ওয়েবসাইটে উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে বাচ্চারা সামনের বছর কী বই পাচ্ছে, সেটা তারা অনলাইনে দেখতে পাবে।

সর্বাধিক পঠিত