রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
MENU
#
সুষ্ঠু ভোটের ছক করছে প্রশাসন
daily-fulki

সুষ্ঠু ভোটের ছক করছে প্রশাসন


স্টাফ রিপোর্টার : ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে নানান পরিকল্পনা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা মেনে ভোটের পরিবেশ ঠিক করতে কাজ করছেন রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা। ভোটের পরিবেশ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নানান উদ্যোগ নিচ্ছেন তাঁরা। জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত ইসির নির্দেশনা বাস্তবায়নই মূল কাজ বলেন কর্মকর্তারা। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে ২৪ ডিসেম্বর সব জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে বৈঠক করবে ইসি।

দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ যেন সুষ্ঠুভাবে নিজের ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করছেন জেলা-উপজেলার কর্মকর্তারা। ভোটের সময় ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারসহ বাকি ৬৪ জেলার ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে। তবে এবারই প্রথমবারের মতো সংসদের সাধারণ নির্বাচনে ইসির তিন আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে কমিশন।

তফসিলের আগেই রদবদল করে মাঠপ্রশাসন সাজায় অন্তর্বর্তী সরকার। জেলা-উপজেলায় নতুন কর্মকর্তারা যোগদান করে ভোটের পরিবেশ নিয়ে নানামুখী কাজ শুরু করেন। এলাকার সমস্যা জানার পর সমাধানের উদ্যোগও নেন কয়েক জেলায়। তফসিল ঘোষণার পর মাঠপ্রশাসন থেকে কেন্দ্র, সবাই এখন সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভাবছে। একাধিক ডিসি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রতিটি জেলার চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা ভিন্ন। তা মাথায় নিয়ে কাজ করছি।’ টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের কাছে নির্বাচন অগ্রাধিকার। সে কারণে ইসি যে নির্দেশনা দেয় সেটি বাস্তবায়নই কাজ এখন।’ খুলনা বিভাগের একটি জেলার ডিসি বলেন, ‘মতবিনিময় করছি, মানুষের মধ্যে ভয় কাটানোর কাজ করছি, অনেকে দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনি। ভোটের একটা উৎসবমুখর পরিবেশ করতে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।’ চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলার ডিসি বলেন, ‘জেলায় যোগদান করেই জেলার সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছি। নির্বাচন ও একই দিন গণভোট। মানুষ যেন স্বচ্ছ বার্তা পায় সে কারণে আমরা আমাদের জায়গা থেকে কাজ করছি।’ ঢাকা বিভাগের এক ইউএনও বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীদের বলেছি আপনারাই এলাকার বাসিন্দা, এলাকায় থাকবেন। আমরা সাময়িক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। নিজেরা প্রত্যেকে যেন নির্বাচনে সহমর্মী, সহযোগী হয় সে বার্তা দিয়েছি।’ একাধিক জেলার ডিসি তাঁদের নির্বাচনি এলাকায় অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা হতে পারে সে হিসেবে নানান প্রস্তুতির কথাও জানান। ঝুঁকিপূর্ণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বাছাই করা হচ্ছে প্রতিটি জেলায়। নির্বাচনের আগে-পরে নানান ঘটনা থাকে, এটি যত কম হয় সে চেষ্টার কথা বলেন কেউ কেউ। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, আচরণবিধি না মানলে যে দলের হোক কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান একাধিক ডিসি। জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কথাও বলেন ডিসিরা।

নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রতিটি জেলা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠাচ্ছেন ডিসিরা। ভোটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবে, সেখানে প্রতিটি টিমে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এ ছাড়া জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিনিয়র সহকারী সচিবসহ জেলায় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে দিচ্ছেন ডিসিরা। জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও করছেন। যাতে নির্বাচনের কাজে কোথাও বাধা সৃষ্টি না হয় বা কোথাও গ্যাপ না হয়। ইউএনওরাও নিজেদের নির্বাচনি এলাকার সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নসহ চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছেন। একাধিক ইউএনও বলেছেন, ‘একটি সুষ্ঠু ভোট করতে যা যা প্রয়োজন ইসির নির্দেশনায় আমরা তা নিশ্চিত করব।’ ইতোমধ্যে আগাম সতর্কতা হিসেবে রিটার্নিং কার্যালয় ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। নির্বাচনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, মালামাল ও যন্ত্রপাতি রক্ষার জন্য রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে ইসির চিঠিতে। এজন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। এদিকে ২৪ ডিসেম্বর ডিসি-এসপিদের সঙ্গে ইসির বৈঠক রয়েছে। ইসি উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি, আচরণবিধি প্রতিপালন এবং আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে বৈঠকে। সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আউয়াল মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নির্বাচন এলে একটা পরিকল্পনা করেন ডিসিরা। যাঁরা মূলত রিটার্নিং কর্মকর্তা। একটু সুন্দর পরিকল্পনায় সুষ্ঠু ভোট সম্ভব। রিটার্নিং অফিসার তাঁর আওতাধীন এলাকায় জনমত তৈরি করতে পাবলিকের সঙ্গে ঘন ঘন মতবিনিময় করে থাকেন। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা, প্রিসাইডিং, পোলিং অফিসারদের মোটিভেট করা হয়। এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তাটাও বেশি থাকবে। নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে নানান কাজ শুরু হয়েছে।’ তাতে একটা ভালো নির্বাচন হতে পারে বলেও জানান তিনি।
 

সর্বাধিক পঠিত