ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে মাটি খনন কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু ও একটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভাংচুর করা হয়েছে তিনটি ড্রাম ট্্রাক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভেকুর মালিক রুমান মিয়াকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নিলেও তাকে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের দীঘলগ্রামে।
জানা গেছে, উপজেলার সাইদপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিন মৎস চাষের জন্য তার নিজ জমিতে পুকুর খননের জন্য গত ৯ নভেম্বর শর্তসাপেক্ষে মাটি কাটার লিখিত অনুমতি দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনীক (সম্প্রতি বদলী করা হয়েছে)। মঙ্গলবার পুকুর খননের জমিতে ভেকু নিয়ে যান জসিম উদ্দিন। কিন্তু একটি পক্ষ কৃষি জমি নষ্ট হবে এমন অভিযোগ তুলে বিকেল বেলায় তাতে বাধা দেন এবং তুমুল বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে একদল লোক ভেকু ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এলাকাবাসীর বাধারমুখে ফিরে যায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এতে ভেকুটি সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবিব ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদওয়ান আহমেদ রাফি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখান থেকে ভেকুর মালিক রুমান মিয়াকে আটক করা হয়। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিব বলেন, তাকে (ভেকুর মালিক) উত্তেজিত জনতার হাত থেকে নিরাপত্তা হেফাজতে আনা হয়েছে।
তবে তাকে জামিনযোগ্য ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান, ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হুদা খান।
ইউএনও জানান, আমার আগে ইউএনও মাটি বিক্রি না করার শর্তসাপেক্ষে পুকুর খননের অনুমতি দিয়েছেন। সেখানে জমি নিয়ে দুপক্ষের বিরোধে অভ্যন্তরীন কোন্দলে ভেকু ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে জানা গেছে, এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাটি ব্যবসায়ী একচ্ছত্রভাবে কয়েক বছর ধরে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করে আসছে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এ দ্বন্দ্বের জেরে ভেকু ও মোটরসাইলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে। তবে গতকয়েক দিন আগে দীঘলগ্রামে নাজিম দেওয়ান, পাগল বাচ্চু, শফিক দেওয়ান, জাহাঙ্গীর হোসেন, সানোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আবু সাইদের নামে ধামরাই থানায় একট্ িলিখিত অভিযোগ করেন জসিম উদ্দিন।
