ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুত দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। গণসংযোগের পাশাপাশি জোট বা আসন সমঝোতাও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনটি জোট গঠন হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশির ভাগ দলের প্রার্থীরা এখন নিজ এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সব মিলিয়ে তফসিলের আগেই ভোটের মাঠে একধরনের উৎসব বিরাজ করছে।
এদিকে ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে দলগুলোর দৌড়ঝাঁপও বাড়ছে। গঠিত হচ্ছে নতুন নতুন রাজনৈতিক জোট। এরই মধ্যে ৯টি বাম দল নিয়ে গঠিত হয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। জাপা ও জেপির নেতৃত্বে এসেছে নতুন জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’। তবে আলোচনায় এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নিয়ে গঠিত নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট। জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ইসলামি দলও আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বেও জোট গঠনের তৎপরতা চলছে। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠের এসব কর্মকাণ্ড তফসিলের আগেই পুরো ভোটের আমেজ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে সুষ্ঠু ভোট হয়নি। যে কারণে ভোটের জন্য মানুষ মুখিয়ে আছে। এখন জনগণ তফসিলের অপেক্ষায়। তবে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও জানান নেতারা। তারা বলেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সব দলকে ভোটের মাঠে সমান সুযোগ দিতে হবে। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। বিএনপির প্রার্থীরাও গণসংযোগ করছেন। দেশে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচনের জন্য আমরা এক বছর থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে পর্যায়ক্রমে ৩০০ আসনে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী বাছাই করে মাঠে কাজ করার জন্য বলেছি। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা কাজ করছেন। এখন সামনে সময় খুব কম। এর মধ্যে আবার আন্দোলনরত আমরা ৮টা দল আছি, যারা প্রার্থী বাছাইয়ের দিকে যাচ্ছি। শীর্ষ নেতারা বসে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। সব মিলিয়ে আমরা প্রস্তুত। শিডিউল ঘোষণার পর বসে তাৎক্ষণিকভাবে বাকি সব প্রস্তুতি নেব।
গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচন সঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, দেশের মানুষ নির্বাচন চায়, তারা ভোট দিতে চায়। নির্বাচনি সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরের আন্দোলনে বিএনপিসহ অন্যান্য দল আমাদের সঙ্গে ছিল। আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে। তবে এখনো কারও সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা হয়নি। আমরা এককভাবে কিছু করতে চাই না।’
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, আমরা অনেক আগে থেকে নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যে আছি। আর প্রস্তুতির চেয়ে বড় কথা-দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচন জরুরি। নির্বাচন যত তাড়াতাড়ি হবে, দেশ তত দ্রুত একটা ট্রেনে উঠতে পারবে। সে বিবেচনায় তফসিল হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর যে সময়টা আছে, আশা করি বাকি প্রস্তুতি সেরে ফেলতে পারব।
