মাঠের লড়াই শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েক দিন, অথচ বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ঠিক আগ মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। মালিকানা নিয়ে সন্দেহ, ফ্র্যাঞ্চাইজির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং হঠাৎ করে মেন্টর ও টিম ম্যানেজার হাবিবুল বাশার সুমনের পদত্যাগচ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যখন ঘোলাটে, ঠিক তখনই গভীর রাতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল দলটি।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে চট্টগ্রাম রয়্যালস জানিয়েছে, বিপিএল থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।
বিবৃতিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি উল্লেখ করে, ‘বিপিএলের দ্বাদশ আসর থেকে চট্টগ্রাম রয়্যালস সরে দাঁড়াচ্ছে, এমন একটি খবর আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাতে চাই, বিসিবি বা কোনো গণমাধ্যমকে আমরা এমন কোনো তথ্য দিইনি। এই গুজবের কোনো সত্যতা নেই।’
দলের মূল্যবোধ ও প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তারা আরও জানায়, ‘চট্টগ্রাম রয়্যালস সততা ও স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমরা পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ম্যানেজমেন্ট পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে।’
এদিকে দলের মেন্টর ও ম্যানেজারের পদ থেকে হাবিবুল বাশার সুমনের সরে দাঁড়ানো নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশাও দূর করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। রয়্যালস কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিয়েছে, সুমন বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন। স্বার্থের সংঘাত এড়াতেই তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব ছেড়েছেন। এ সময় দলের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানানো হয়।
বিদেশি কোচের পথে না হেঁটে এবার স্থানীয় কোচিং স্টাফের ওপরই ভরসা রাখছে চট্টগ্রাম। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, দলের ব্যাটিং কোচ ও মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক ক্রিকেটার তুষার ইমরান। আর প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকছেন মমিনুল হক।
এর আগে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ব্যাংক গ্যারান্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও নিলামে তাদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ৫০ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্যের নাঈম শেখকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় দলে ভিড়িয়ে তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড় সামলে এখন মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
