রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
MENU
#
মা-মেয়ের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন
daily-fulki

মা-মেয়ের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন

লায়লা আফরোজের শরীরে আনুমানিক ২০ থেকে ২২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে পাশাপাশি তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজের গলায় চারটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
 
রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে বহুতল ভবনের ৭ তলার নিজ ফ্ল্যাটে মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়। 

নিহতরা হলেন মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)। 

 

নাফিসা মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আজিজুল ইসলাম রাজধানীর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে সংবাদে পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং লাশ উদ্ধার করে।

নিহত লায়লা আফরোজের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিরীন সুলতানা। তিনি বলেন, নিহত নারীর শরীরে আনুমানিক ২০ থেকে ২২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মুখ, গলা ও থুতনিসহ শরীরের বিভিন্ন  স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া তার স্তনে একটি আঘাত দেখে বোঝা যাচ্ছে সেখানে একাধিকবার আঘাত করা হয়েছে। 

অন্যদিকে উপপরিদর্শক (এসআই) মমতাজ নিহত শিক্ষার্থী নাফিসার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। তিনি বলেন, তার গলায় চারটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। দুটি লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে। পরে আইন অনুযায়ী স্বজনদের কাছে লাশ দুটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। 

 

পুলিশের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডে গৃহকর্মী জড়িত। ঘটনার পর থেকে ওই গৃহকর্মী পলাতক। ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ওই গৃহকর্মী বোরকা পরে বাসায় এসেছিলেন। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার পরনে ছিল নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস। হত্যাকাণ্ডের আনুমানিক চারদিন আগে ওই গৃহকর্মী বাসার কাজের যোগদান করেন। 

এদিকে জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থীর বাবা আজিজুল ইসলাম সকালে স্কুলে গিয়েছিলেন। তিনি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় এসে স্ত্রী–সন্তানের লাশ দেখতে পান।

বাসায় ফিরে দরজা খোলার জন্য কলিং বেলে চাপ দেন আজিজুল ইসলাম। কিন্তু ভেতর থেকে কেউ দরজা খোলে না। একপর্যায়ে জোরে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। সেসময় মেঝেতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পান। আর রান্না ঘরের পাশে স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখনও মেয়েটি বেঁচে ছিল। পরে তার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যায়। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক ও নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে চারদিন আগে ওই গৃহকর্মীকে কাজে নেন। সকালে এসে বাসার কাজ করে চলে যেত।
 
মেয়েটির পরিচয় ও ফোন নম্বর চেয়েছিলেন কিন্তু সে বলেছিল, আগুনে পুড়ে তার মা–বাবা মারা গেছে। সেও আগুনে দগ্ধ হয়েছিল। এসব বলে পরিচয় ও ফোন নম্বর দেয়নি।

এদিকে রাতে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তাছাড়া নিহতদের পরিবার শোকাহত লাশ দাফন নিয়ে ব্যস্ত আছে। তারা থানায় এলেই মামলা রেকর্ড করা হবে। 

 

সর্বাধিক পঠিত