দেশে যখন বিপিএলের প্রস্তুতি নিয়ে তোড়জোড়, তখন স্রোতের বিপরীতে হাঁটলেন তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর বিপিএল বাদ দিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার জৌলুসপূর্ণ টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল)। মঙ্গলবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।
বিগ ব্যাশের এবারের মৌসুমে ‘হোবার্ট হারিকেন্স’-এর জার্সি গায়ে জড়াবেন রিশাদ। দলটির স্ট্র্যাটেজি প্রধান হিসেবে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিং। মূলত পন্টিংয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিশ্বমঞ্চে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের বড় এক সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের এই তরুণ তুর্কি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে পুরো মৌসুমের জন্যই অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছেন রিশাদ। ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হারিকেন্সের স্কোয়াডেই তাকে পাওয়া যাবে। আর এ কারণেই এবারের বিপিএলে তার না থাকাটা নিশ্চিত হয়ে গেছে।
আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্দা উঠছে বিগ ব্যাশের নতুন আসরের। টুর্নামেন্টের তৃতীয় দিনেই সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে মাঠে নামবে হোবার্ট হারিকেন্স, যেখান থেকে শুরু হতে পারে রিশাদের বিগ ব্যাশ যাত্রা। ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে প্রথম রাউন্ডের খেলা। দল সেরা চারে জায়গা করে নিতে পারলে প্লে-অফ পর্বেও খেলার সুযোগ থাকবে তার সামনে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বিগ ব্যাশ খেলার ইতিহাস খুব একটা সমৃদ্ধ নয়। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই লিগে জায়গা করে নিলেন রিশাদ। তবে একটি জায়গায় তিনি অনন্য—সাকিব এর আগে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যথাক্রমে অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে খেললেও, দুইবারই তিনি ছিলেন বদলি খেলোয়াড়। রিশাদই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি সরাসরি ড্রাফট থেকে বিগ ব্যাশের কোনো দলে ডাক পেয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট শিকার করে সবার নজর কেড়েছিলেন রিশাদ। দেশের বাইরে এটি হতে যাচ্ছে তার দ্বিতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নিজেকে আরও শাণিত করার লক্ষ্যে বিপিএল ছেড়ে বিগ ব্যাশের মঞ্চকেই বেছে নিলেন এই লেগ স্পিনার।
