রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ধামরাইয়ে নেই স্থায়ী বসতবাড়ি আছে শুধু এনআইডি তাতেই মিলল সারের ডিলারশিপ
daily-fulki

ধামরাইয়ে নেই স্থায়ী বসতবাড়ি আছে শুধু এনআইডি তাতেই মিলল সারের ডিলারশিপ


ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে সরকারি নীতিমালা ষ্পষ্ট লঙ্ঘন করে এক বহিরাগত ব্যক্তিকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির ধামরাইয়ে কোন নিজস্ব জমিতে বসতবাড়ি নেই বা দৃশ্যমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও শুধুমাত্র ধামরাইয়ের বারবাড়িয়া এলাকার ঠিকানায় একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ডিলারশিপ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা উপজেলার স্থায়ী ডিলারশিপের জন্য আবেদন বা নির্বাচিত হতে পারবেন না। এতে স্থানীয় সার ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সরকারি সার কালোবাজারে পাচার হওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। এতে ধামরাইয়ের প্রান্তিক কৃষকরা চরম সার সংকটে পড়তে পারেন।


নীতিমালায় রয়েছে,কোন ব্যক্তির এনআইডি কার্ডে বর্তমান বা সাময়িক কোন ঠিকানা থাকলেও তদন্তে যদি প্রমানিত হয় যে, তার পৈতৃক বা প্রকৃত স্থায়ী বসতবাড়ি অন্য উপজেলায় এবং এনআইডি কার্ডের ঠিকানায় স্থায়ী বাসস্থান নেই তাহলে তিনি স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে গণ্য হবেন না। 


অনুসন্ধানে সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে বারবাড়িয়া বাজারে গত সেপ্টেম্বর ২০ তারিখে ‘মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্স’ এর সত্ত্বাধিকারী জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তিকে ‘জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি’ কর্তৃক সুপারিশকৃত এবং সার ডিলার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত অস্থায়ীভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি পাশের জেলা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সটুরিয়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলে। তিনি (জয়নাল আবেদীন) স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তার স্থায়ী ঠিকানা সটুরিয়া গ্রামে। তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকেও জানা গেছে,তিনি স্ত্রী,এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সটুরিয়া গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ধামরাইয়ে তার কোন বসতবাড়ির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আছে শুধু একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। আর তাতেই তিনি পেয়ে গেছেন সারের ডিলারশিপ। ধামরাইয়ে যার বসতবাড়ি নেই কিংবা অস্তিত্ব নেই তাকে কিভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হলো তা নিয়ে স্থানীয়দের ও কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ যাচাই-বাছাই ও মাঠপর্যায়ে তদন্তের গাফিলতির সুযোগ নিয়ে তথ্য গোপন করেও জয়নাল আবেদীন সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।  


এ বিষয়ে জয়নাল আবেদীনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধামরাইয়ে আমার বসতবাড়ি না থাকলেও অনেক বছর ধরে বারবাড়িয়া বাজারে আমার মুদি ও সারের দোকান আছে আমি ওই দোকানেই রাত্রি যাপন করি।  


এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আল মামুন বলেন, গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবেদনের সাথে জমা দেওয়া কাগজপত্র প্রাথমিক দৃষ্টিতে সঠিক থাকায় সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে তিনি তথ্য গোপন করে থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


এই জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং বহিরাগতের ডিলারশিপ বাতিল করে ধামরাইয়ের প্রকৃত স্থায়ী বাসিন্দাকে ডিলারশিপ নিয়োগ দেওয়ার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভ’য়া তথ্য দিয়ে সারের মতো সংবেদনশীল ও কৃষির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে এমন নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সর্বাধিক পঠিত