ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছাড়াই তিন মাস ধরে চলছে। এতে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। জিডি, অভিযোগ ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের মতো জরুরি কাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, থানার ওসির কক্ষটি কার্যত শূন্য পড়ে আছে। তবে একজন তদন্ত কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। সেবাগ্রহীতারা জানান, নিয়মিত ওসি না থাকায় বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহীম মিয়া বলেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নানা প্রয়োজনে থানায় আসেন। কিন্তু দীর্ঘ তিন মাস ধরে থানায় নিয়মিত ওসি না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ব্যবসায়ী হিসেবে আমরাও এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার রোধে দ্রুত একজন স্থায়ী ওসি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান চাকরিজীবী অনিক হোসেন। তিনি বলেন, চাকরির কারণে আমাদের হাতে সময় খুব কম থাকে। কোনো প্রয়োজনে থানায় গেলে জিডি বা অভিযোগ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ জরুরি কাজেও ভোগান্তির কথা শুনতে হচ্ছে। একটি থানায় তিন মাস ধরে নিয়মিত ওসি না থাকা দুঃখজনক। আমরা চাই, দ্রুত ওসি নিয়োগ দিয়ে সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা হোক।
এদিকে থানায় প্রশাসনিক শূন্যতার পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ নানা অপরাধ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও আমাদের আতঙ্কিত করছে। থানায় একজন নিয়মিত ওসি থাকলে অপরাধ দমনে নেতৃত্ব ও তদারকি আরও জোরদার হবে বলে আমরা মনে করি। এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত স্থায়ী ওসি নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।
তবে থানা পরিচালনায় বড় ধরনের কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না বলে দাবি করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে একজন তদন্ত কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৫৫১ ধারা অনুযায়ী তারাও থানার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকার দাবি করা হলেও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। দ্রুত নিয়মিত ওসি নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক শূন্যতা দূর, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জবাসী।
