বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আশুলিয়ায় শ্রমিক–পুলিশ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ৭০ কারখানায় ছুটি
daily-fulki

আশুলিয়ায় শ্রমিক–পুলিশ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ৭০ কারখানায় ছুটি


স্টাফ রিপোর্টার : ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়ার আব্দুল্লাহপুর–বাইপাইল সড়কের জামগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কায় আশুলিয়ার ৭০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর
প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে আশুলিয়ার আব্দুল্লাহপুর–বাইপাইল সড়কের আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় উপস্থিত হন শ্রমিকেরা। তাঁরা কাজ বন্ধ করে কারখানায় বসে থাকেন। পরে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করলে সকাল সাড়ে আটটার দিকে জামগড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আজ সাভার ও আশুলিয়ার পরিস্থিতি অনেক ভালো। তবে কিছু জায়গায় অস্থিতিশীলতার শঙ্কা থাকায় এবং কিছুটা অস্থিতিশীল হওয়ায় এসব এলাকার এক হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে ৭০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সকালে জামগড়া এলাকায় কারখানা ছুটির পর কিছু দুষ্কৃতকারী কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছে। সেখান থেকে কয়েকজনকে ধরার পর তাঁরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন।


কারখানার ফটক ভাঙচুর
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, সকাল থেকে আশুলিয়ার দোসাইদ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ওই এলাকার ‘ফেব্রিকা নিট কম্পোজিট’ কারখানার সামনে ৪০০ থেকে ৫০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে কারখানার দুটি ফটক ভেঙে ফেলেন। এ পরিস্থিতিতে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এখানে এই কয়দিন সুন্দরভাবে কাজ চলছিল। কোনো ঝামেলা হয় নাই। গতকাল (বুধবার) দেড় শ লোক আসছিল। আমরা ওদের গেট থেইকা সরাইয়া দিছিলাম। কিন্তু আজকে প্রিপারেশন নিয়া আসছিল। প্রায় ৫০০ লোক আইসা দুইটা গেইট ভাঙছে। কারখানা ছুটি দিলে শ্রমিকেরা বের হলে তারা চইলা গেছে। পরে আশপাশের কারখানাও ছুটি দিয়া দিছে।’


আন্দোলনে না গেলে দেওয়া হয় পিটুনি
কারখানা ছুটির পর কারখানার বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত না হলে পিটুনি খেতে হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কয়েকজন শ্রমিক।

জামগড়া এলাকার একটি কারখানার শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সকালে আমরা সবাই কাজ শুরু করছি। তহন বাইরে থেইকা পোলাপান আইসা যেই ঢিল শুরু করছে, মালিকে ছুটি দিয়া দিল।’ তিনি বলেন, ‘ছুটির পর ওগো লগে না গেলে মারে। গতকাল আমাকেও মারবার নিছিল। পরে গেছিলাম; খানিক পর পাশ কাইট্টা বাসায় চইলা আসছি।’


টহল দিচ্ছে পুলিশ–বিজিবি
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাভারের রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর এলাকা ঘুরে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন কারখানার সামনে এবং কারখানা–সংলগ্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও দেখা যায়। বেলা একটার দিকে সাভারের জোরপুল এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়।

বিজিবির ঢাকা ব্যাটালিয়নের (৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান খান বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকের পরিস্থিতি ভালো। এখন পর্যন্ত নাশকতার ঘটনা কোথাও হয়নি। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। সাভার ও আশুলিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।


এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ডিইপিজেড) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।

ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। গত তিন থেকে চার দিন ধরেই এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। আশুলিয়া ও সাভার থানায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কেউই শ্রমিক নন। এ-সংক্রান্ত আটটি মামলা হয়েছে। আরও কয়েকটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

ডিআইজি আরও বলেন, শ্রমিকেরা কারখানা, রাস্তাঘাট ও নিজেদের আবাসস্থল—সব জায়গায় নিরাপত্তা পাবেন। ইতিমধ্যে শ্রমিকদের আবাসস্থলে পুলিশ টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি কারা শ্রমিকদের ভয় দেখাচ্ছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত