বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
পাঁচ মাস ধরে ভাঙা সড়ক, দুর্ভোগে সাটুরিয়ার হাজারো মানুষ
daily-fulki

পাঁচ মাস ধরে ভাঙা সড়ক, দুর্ভোগে সাটুরিয়ার হাজারো মানুষ


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) বিভাগের নির্মাণাধীন একটি সড়কের মাঝখানে বিশাল ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ।


সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার সৃষ্টি হলেও তা সমাধানে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।


ফলে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জানা যায়, কয়েক মাস আগে টানা বর্ষণে প্রথমে সড়কের এক পাশে ভাঙন দেখা দেয়।


সে সময় দ্রুত মেরামত করা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হতো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ভাঙন বাড়তে বাড়তে এখন প্রায় পুরো সড়কই গ্রাস করেছে।


ফলে সড়কটি যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক গ্রামের শত শত কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য গোপালপুর বাজারে নিতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।


অন্যদিকে, উপজেলা সদরে যেতে চাইলে এলাকাবাসীকে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এ ছাড়া স্কুলগামী শিশুদের যাতায়াতও চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের আলোয় কোনো রকমে এক পাশ দিয়ে চলাচল করা গেলেও রাতে তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অসাবধানতাবশত পা পিছলে ১৫ থেকে ২০ ফুট নিচের খাদে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসী উপজেলা এলজিআরডি অফিসে একাধিকবার মৌখিকভাবে বিষয়টি জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট এলজিআরডি বিভাগ।
গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার ও আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য এটি তাদের সবচেয়ে সহজ রাস্তা। কিন্তু বর্তমানে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তাদের ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত পথ ঘুরে স্কুলে আসার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানান।


স্থানীয় বাসিন্দা খোকা মিয়া ও লাভলু ব্যাপারী বলেন, রাস্তাটি খারাপ থাকায় জমিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে আনতে পারছেন না তারা। ঘুরে যাতায়াত করতে হলে যেমন সময় বেশি ব্যয় হচ্ছে, তেমনি পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। দিনের আলোয় ভাঙা রাস্তার এক পাশ দিয়ে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও রাতে তা প্রায় অসম্ভব। রাতের বেলায় অসাবধানতাবশত পা পিছলে ১৫ থেকে ২০ ফুট নিচের খাদে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত রাস্তাটি মেরামত না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিপন মাস্টার বলেন, রাস্তাটি ভেঙে গেলেও মেরামতের ক্ষেত্রে এলজিআরডি বিভাগের কোনো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছেন না তিনি। রাতের আঁধারে অনেক পথচারী মোটরসাইকেল নিয়ে গর্তে পড়ে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দলবদ্ধভাবে স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় গর্তে পড়ে শিক্ষার্থীরাও আহত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি মেরামতের জোর দাবি জানান তিনি।


গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তার বেহাল দশার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


সাটুরিয়া উপজেলা এলজিআরডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ বলেন, সড়কটি আগামী বাজেটে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভাঙা অংশের পাশে একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করতে হবে। আপাতত ‘আরএমপি’র নারী কর্মীদের মাধ্যমে মাটি কেটে ভাঙা অংশটি সাময়িকভাবে মেরামতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
 

সর্বাধিক পঠিত