কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার কয়েক দিনের মাথায় এবার ছুটি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম। ২২ অক্টোবর থেকে তাঁর কর্মস্থলে অনুপস্থিতি,ছুটির আবেদনপত্রে অনুমোদনের দৃশ্যমান সিল-স্বাক্ষর না থাকা এবং আবেদনে উল্লেখ করা ছুটির তারিখের সঙ্গে অনুপস্থিতির সময়ের অসংগতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এদিকে উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকায় ইউএনওর অনুপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ,বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে ইউএনওর কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাজে এসে তাঁকে না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সেবা নিতে আসা মো: হানিফ আলী একটি আবেদন দেখিয়ে বলেন,ইউএনও অফিস আসছি স্যারের একনা স্বাক্ষর নাগে এই কাগজে। উনি নাকি ছুটিতে আছেন। এইজন্য মোর কামটা হইলো না।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো: রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ইউএনও নাই। কত মানুষ দেখলাম আসি আসি ঘুরি যাবার লাগছে।”
ইউএনওর ছুটির আবেদনপত্র ঘিরেও উঠেছে প্রশ্ন। জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই আবেদনে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের নৈমিত্তিক ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটিতে কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তবে আবেদনপত্রে ছুটি মঞ্জুরের কোনো দৃশ্যমান সিল বা স্বাক্ষর নেই। অন্যদিকে,তাঁর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,ইউএনও ২২ অক্টোবর থেকেই ছুটিতে গেছেন। ফলে ছুটি মঞ্জুরের সময় এবং কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকারিয়া হোসেন বলেন,ইউএনও স্যার ২২ তারিখ ছুটি নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার আসার কথা।”
তানজিলা তাসনিমের অনুপস্থিতিতে রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ইউএনও মো: মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, “আমি রুটিন দায়িত্বে আছি। ডিসি স্যার আমাকে জানিয়েছেন এই সপ্তাহ তিনি থাকবেন। আগামী রবিবার তিনি আসবেন।”
এদিকে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও ২২ অক্টোবর থেকে ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ছুটিকালীন দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন,ডিসি স্যারও ছুটিতে রয়েছেন। আমি বর্তমানে ছুটিকালীন দায়িত্ব পালন করছি। রাজারহাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে আমাকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এর আগে গত ২২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে আলোচনায় আসেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। ভিডিওতে প্রায় দেড় মিনিটে এক মন্ত্রীকে ৩৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধন করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনার পর তাঁর কর্মস্থলে অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তানজিলা তাসনিম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনা নিয়েও সে সময় সমালোচনা হয়।
এ অবস্থায় ছুটির আবেদন যথাযথভাবে মঞ্জুর হয়েছিল কি না এবং নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি ছিল কি না,তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। তাঁদের মতে,প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে যেন সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন,তা নিশ্চিত করা জরুরি।
