সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে ভাংচুর ও লুটপাটের শিকার মহিলা মাদরাসা পরিদর্শনে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ
daily-fulki

সাভারে ভাংচুর ও লুটপাটের শিকার মহিলা মাদরাসা পরিদর্শনে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

 

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের বিরুলিয়ার ছোট কালিয়াকৈরে তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-বেফাকের শীর্ষ বৃন্দ। গতকাল রোববার দুপুরে মাদরাসাটি পরিদর্শনকালে তাঁরা ঘটনার প্রকৃত তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

দুই দিন আগে মাদরাসাটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বর্বরোচিত হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার বাস্তব চিত্র স্বচক্ষে দেখতে এবং তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী ও প্রশাসনের সামনে তুলে ধরতেই তাঁরা পরিদর্শনে আসেন।

পরিদর্শন শেষে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, আমরা কখনোই কোনো অন্যায়কারীর পক্ষাবলম্বনের জন্য এখানে আসিনি।

আমাদের স্পষ্ট কথা, অন্যায়কারীর অন্যায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হলে তার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ভূমিকা পালন করব।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, কোনো একজন মানুষকে অপরাধী সাব্যস্ত করার জন্য দেশে আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে কি না, তা জাতির বিবেক ও গণমাধ্যমের কাছে জানতে চান তাঁরা। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে সমাজের সামনে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি আবদুল বারীর প্রসঙ্গ টেনে বেফাক মহাসচিব বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ নিয়মে তদন্ত করতে হবে। তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর শাস্তির ব্যবস্থা করতে তারা সহযোগিতা করবেন।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে শরীয়া আইনে বিচার করুন। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের ক্ষতিগ্রস্থ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মাদরাসাটির কোনো সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড, অভিজ্ঞ আলেম ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে আইনানুগভাবে সমাধানের সুযোগ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাদরাসায় হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, পরিদর্শনে তারা প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র এবং পরিচালকের পরিবারের ব্যক্তিগত মালামাল তছনছ ও লুটপাটের চিত্র দেখেছেন।

তাঁর দাবি, মাদরাসাটিতে হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুট করা হয়েছে, যার মূল্য কোটি টাকার বেশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধী হলেও তাঁর কারণে একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেন ক্ষতিগ্রস্থ হবেন? অভিযোগের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া উপেক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের হামলা চালানোর যৌক্তিকতা কী, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, ব্যক্তির দোষের কারণে বেফাকভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হেফাজত ও বেফাকের শীর্ষ নেতারা বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এই ঘটনায় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিলে ভাংচুর লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা যেতো। তারা দোষীদের বিচার সহ সরকারের কাছে এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

মাদরাসা পরিদর্শনকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইয়াতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতের নায়েবে আমীর মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, বেফাকের কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা আবদুল্লাহ, হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মুফতি আফসার মাহমুদ প্রমুখ।

এসময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন শায়খুল হাদীস আশিকুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী, হেফাজত ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম, মুফতি মাহফুজুর রহমান, মাওলানা সালীমুল্লাহ, মুফতি আব্দুল বারী, মুফতি আমিনুল ইসলাম কাসেমী, মুফতি নাজমুল হাসান বিন নূরী, মুফতি আব্দুর রহীম কাসেমী, মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা মহিউদ্দিন, মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর বুধবার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর গ্রামে তোহফাতুল জান্নাহ মহিলার মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠা মাওলানা মোঃ আঃ বারীর (৫০) বিরুদ্ধে মাদরাসার ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ মাদরাসাটির ব্যাপক ভাংচুর হামলা করা হয়।

এ ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠা মাওলানা মোঃ আঃ বারী কে অভিযুক্ত করে এবং তার স্ত্রীকে ধর্ষণের সহয়তার অভিযোগে ২ দুই জন আসামী করে সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়। এদিন মাওলানা মোঃ আঃ বারীর স্ত্রী কে পুলিশ আটক করেন।

পরবতীতে মাদরসার পক্ষ থেকে মোঃ উমাইর মাদরাসা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ধর্ষণ মামলার বাদীসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে ২৪ অক্টোবর শনিবার সাভার মডেল থানায় অপর একটি মামলা করা হয়। মামলায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ ৭৭ লাখ টাকার চুরির কথা উল্লেখ করা হয়।

 

সর্বাধিক পঠিত