সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে মেয়ের নিখোঁজের অভিযোগে মাদরাসায় হামলা, উদ্ধারের পর অনুতপ্ত বাবা
daily-fulki

সাভারে মেয়ের নিখোঁজের অভিযোগে মাদরাসায় হামলা, উদ্ধারের পর অনুতপ্ত বাবা


স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের হেমায়েতপুরে একটি বালিকা মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও মায়ের শাসনের প্রতি অভিমান থেকে সে স্বেচ্ছায় মাদরাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
এদিকে ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৫ অক্টোবর হেমায়েতপুরের ‘হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বালিকা মাদরাসায়’ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন তার বাবা নূর ইসলাম। এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত বলেও জানিয়েছেন।
 

যেভাবে নিখোঁজ হয় ছাত্রী


মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ছুটির সময় নিরাপত্তারক্ষীর নজর এড়িয়ে মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে যায় আবাসিক ছাত্রী মারিয়া আক্তার লিমা (১২)। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারকে জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
মাদরাসার কর্মকর্তা মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে সহযোগিতা করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ফুটেজে ছাত্রীকে একা হেঁটে মাদরাসা থেকে বের হতে দেখা যায় বলেও জানান তিনি।
 

নিখোঁজের ঘটনায় মাদরাসায় হামলা


ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের তদন্ত চলার মধ্যে গত ১৫ অক্টোবর সকালে তার স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সংবাদকর্মী ও ইউটিউবারদের সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় যান। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে মাদরাসার ফটক ও চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা চার শতাধিক আবাসিক ছাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
হামলায় মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হন। এছাড়া দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মাঝে পড়ে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়।

এই হামলার দায় স্বীকার করে নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা নুর ইসলাম শনিবার (১৭ আগস্ট) জানিয়েছেন, ‘ঘটনার দিন আমার আত্মীয়-স্বজনদের ১৬ জন ছেলেপেলে নিয়ে গেছি। আমি কারো বদনাম চাই না, আমি কারো ক্ষতিও চাই না। আমি শুধু আমার মেয়েটাকে চাই।’
 

পল্লবী থেকে যেভাবে উদ্ধার সেই ছাত্রী


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহা. সবুজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বলেন, ‘ওই ছাত্রী মাদরাসা থেকে নিজের ইচ্ছায় চলে গিয়েছিল। পরিবারে কিছু সমস্যা ছিল এবং তার মা তাকে নির্যাতন করতেন। মায়ের ওপর রাগ করে সে চলে যায়।’


পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মিরপুর-১২-এর সিরামিকস গেট এলাকা থেকে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে মা-বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী বলেন, ‘মায়ের শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে ছাত্রীটি প্রথমে নবীনগরে যায়। পরে বাসে করে মিরপুরে পৌঁছায়। সেখানে এক রিকশাচালক তাকে আশ্রয়ের জন্য এক নারীর কাছে রেখে যান। পরে ছাত্রীর খাতা থেকে মাদরাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।


এরপর সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হরিণধরা পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের সহায়তায় এবং ছাত্রীর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসার একজন শিক্ষক মিরপুরের পল্লবী-কালশী এলাকার সিরামিকস গেট থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি।
 

ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত বাবা


মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ নিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন নূর ইসলাম। তিনি বলেন, মেয়েকে নিরাপদে ফিরে পাওয়ায় তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। এখন তাঁর আর কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই।


মাদরাসায় হামলার ঘটনায় অনুতপ্ত কি না, জানতে চাইলে নূর ইসলাম স্বীকার করেন, উত্তেজনার মধ্যে এবং অন্যের প্ররোচনায় তিনি ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এখন তিনি মনে করেন, ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি বা ত্রুটি ছিল না।


মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে শিগগিরই মাদরাসার অধ্যক্ষ ও মুহতামিমের সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। 
ছাত্রীকে উদ্ধার করার মধ্যদিয়ে নিখোঁজের ঘটনার অবসান ঘটলেও, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। 

 

সর্বাধিক পঠিত