স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকার আয়েশা সিদ্দিকা রাযি, বালিকা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ মারিয়া আক্তার লিমা (১২) নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রির বাবা নুরুল ইসলাম (৩৪) স্থানীয়দের নিয়ে মাদরাসায় গিয়ে ছাত্রী হোস্টেলে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এ সময় মাদরাসার ছাত্ররা বাঁধা দিলে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে শিক্ষার্থীসহ ৬ জন আহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মাদরাসা কর্তপক্ষ, পুলিশ ও ছাত্রী নিখোঁজের জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর বেলা ১১ টার সময় ছুটি হলে মাদরাসার আবাসিকের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোসাম্মৎ মারিয়া আক্তার লিমা (১২) অনাবাসিক ছাত্রীদের সাথে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন (নং-১১৫৬) করা হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে কোথাও পাওয়া যায়নি এবং পুলিশও উদ্ধার করতে পারেননি।
ঘটনার ৫ দিনেও মেয়ের সন্ধ্যান না পেয়ে নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা নুরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় ৩০/৩৫ জন লোক নিয়ে মহিলা মাদরাসার হোস্টেলে প্রবেশ করতে চাইলে মাদ্রাসার সিকিউরিটি গার্ড বাঁধা প্রদান করেন। পরে পুরুষ মাদরাসার ছাত্ররা ঘটনাস্থলে এসে তারা মাদরাসায় প্রবেশে বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় সংঘর্ষে মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হাফেজ সোহানুর রহমান, মুহাম্মদ রাহাত, দ্বীন ইসলাম, আশরাফুল, সিয়াম এবং বেসরকারী টেলিভিশনের এক ক্যামরাপার্সনসহ ৬ জন আহত হয় । উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ক্যামেরা মাটিতে পড়ে গেলে গ্লাস ভেঙ্গে যায় ও মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেল বাঁকা হয়ে যায় । এক পর্যায়ে মাদরাসার পক্ষ থেকে জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দেন ও ক্যামেরাপার্সনের ক্ষতিপূরণ প্রদান করেন।
মাদরাসার শিক্ষক মুফতি আব্দুল্লাহ ফিরোজি জানান, নিখোঁজ হওয়া মাদরাসার ছাত্রীর বাবা নুরুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ৫০/৬০ জন লোক নিয়ে এসে মাদরাসার ছাত্রী হোস্টেলের গেইট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্ররা বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তিনি আরো জানান, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবী করছি আমরা ।
জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার (এসআই) সবুজকে জানান, গত ১১ অক্টোবর মাদরাসার ছাত্রী নিখোঁজ হলে আমরা তাকে উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সাভার মডেল থানার (এসআই) মোঃ আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে মাদরাসা থেকে জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ নম্বরে ফোন আসলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই।
