সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
দাউদকান্দি থেকে জাবি শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল উদ্ধার
daily-fulki

দাউদকান্দি থেকে জাবি শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল উদ্ধার


জাবি প্রতিনিধি : ‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দাউদকান্দি মডেল মসজিদ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

 

জাকসুর সাবেক এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎তিনি জানান, মোহাইমিনুল অন্য একজনের ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে তার বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থী শফিউজ্জামান শাহীনকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি দাউদকান্দি মডেল মসজিদের আশপাশে রয়েছেন এবং তাকে উদ্ধারের আরজি জানান। এর পর শাহীন বিষয়টি তাদের জানালে তারা স্থানীয় পরিচিতজনদের সহযোগিতায় দাউদকান্দি মডেল মসজিদ এলাকা থেকে মোহাইমিনুলকে উদ্ধার করেন।

 

বর্তমানে তিনি নিরাপদে রয়েছেন।

 

‎মোহাইমিনুলের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে ফেরদৌস আল হাসান বলেন, ‘শারীরিকভাবে তিনি সুস্থই ছিলেন। তবে মানসিকভাবে নিজের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধ করছিলেন এবং আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো চরম পরিস্থিতিতে চলে গিয়েছিলেন। মোহাইমিনুল নিজেই জানিয়েছেন, বারবার নামাজ পড়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে পেরেছেন।

 

‎এর আগে সোমবার বিকেলে মোহাইমিনুলের সন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি মোহাইমিনুলের সন্ধানে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান।

‎বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), গোয়েন্দা বিভাগসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করতে কাজ করছিল। পুলিশের অনুসন্ধানী দল তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছিল।

 

এর মধ্যে একটি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছিল।

 

‎এর আগে গত রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন মোহাইমিনুল। পরে তার আবাসিক কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। নোটে বিভাগের অবহেলার বিষয় উল্লেখ থাকায় ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

‎মোহাইমিনুলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি জানিয়ে বিভাগীয় ফটকে তালা ঝুলিয়েছিলেন। তার সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তারা। একই সঙ্গে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

 

সর্বাধিক পঠিত