সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার ঝড়
daily-fulki

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার ঝড়


ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। হরগজ ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ইউপি সদস্য আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী মালা আক্তার। আব্দুল আউয়ালের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। অন্যদিকে ডিলারশিপ না পাওয়ার অভিযোগে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।


গত ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় নতুন সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রশাসন। তালিকা প্রকাশের পর হরগজ ইউনিয়নে মালা আক্তারের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।


গত রোববার রাতে এস কে রাসেল আহমেদ নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে নিয়োগের সমালোচনা করে পোস্ট দেন। পোস্টে আব্দুল আউয়ালের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করা হয়।


স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আব্দুল আউয়াল হরগজ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন এবং তৎকালীন নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পোস্টের মন্তব্যে অনেকে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ অর্থের প্রভাবের অভিযোগ করেন। কয়েকজন আবার আব্দুল আউয়ালের পক্ষেও অবস্থান নেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আউয়াল বলেন, তিনি হরগজ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টানা দুইবারের সদস্য। আওয়ামী লীগে তাঁর কোনো পদ ছিল না। ইউপি সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে তাঁকে।


সার ডিলারশিপের আবেদনের বিষয়ে আব্দুল আউয়াল বলেন, তাঁর ভাই প্রথমে নিজের স্ত্রীর নামে ডিলারশিপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ভাইয়ের স্ত্রী সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় পরে তাঁর স্ত্রী মালা আক্তারের নামে আবেদন করা হয়।


এদিকে, সার ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভে গত ১০ অক্টোবর দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।


সাদ্দামের দাবি, তাঁর দাদা প্রয়াত মোহাম্মদ শরাফত আলী মাস্টার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং তাঁর বাবা মোহাম্মদ আজহার আলী দরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁদের পরিবার দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে সারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এত বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ডিলারশিপের জন্য আবেদন করে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েই দলীয় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।


সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে আবেদনকারীর তালিকা জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি তালিকাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত আবেদনকারীদের ডিলার হিসেবে মনোনীত করেছে।’


কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের ভাষ্য, আবেদনকারীর নারী-পুরুষ পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক পদ-পদবি বিবেচনা করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

 

সর্বাধিক পঠিত