স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটভাটা পরিচালনার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইট উৎপাদন এবং পরিবেশদূষণের অভিযোগে তিন ব্যক্তি ও চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের পৃথক তিনটি মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলাগুলো সাভার থানায় দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান।
মামলার আসামিরা হলেন, মেসার্স এ বি এন অ্যান্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. জাকির হোসেন, মেসার্স এমএইচএস স্টার ও মেসার্স এমএইচবি স্টার কোং-এর স্বত্বাধিকারী মো. আবু বকর এবং মেসার্স এ আই এম ব্রিকস কোং-এর স্বত্বাধিকারী কাওছার আহমেদ। তাদের মালিকানাধীন চারটি ইটভাটার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইট উৎপাদনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত ইটভাটাগুলোতে উৎপাদিত ইটের বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত এই অর্থের উৎস গোপন এবং তা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলাগুলো করা হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে সাভারের বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সেখানে বায়ুদূষণের বার্ষিক মানমাত্রা প্রায় তিনগুণ অতিক্রম করেছে। শুষ্ক মৌসুমে সাভারে সৃষ্ট দূষিত বায়ু ঢাকায় প্রবেশ করে রাজধানীর বায়ুদূষণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়। এতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে বায়ুদূষণ বিধিমালা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ বা অবনত বায়ুমানসম্পন্ন এলাকা ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। ওই ঘোষণার পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাভার উপজেলার সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানোসহ ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা জারির পরও সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোতে বেআইনিভাবে ইট উৎপাদন অব্যাহত রাখার অভিযোগ পেয়ে এ কার্যক্রম থেকে অর্জিত অর্থের বিষয়ে মানি লন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানে পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ আরও বলেন, পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের প্রবাহ শনাক্ত করা এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনাই এ অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত অন্য ইটভাটার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
