রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
daily-fulki

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী


স্টাফ রিপোর্টার : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করে সংসদীয় কমিটি। এ কারণে বাহিনীকে প্রস্তুতির সময় দিয়ে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিয়ে জনস্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে কমিটি।

রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি কে এম সেলিম রেজা হাবিব।

বৈঠক শেষে তিনি জানান, সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্য নির্বাচনের তুলনায় বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা এখনো পুরোপুরি নেই।

কমিটির সভাপতি বলেন, আগামী বছরের প্রথম দিকেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঝুঁকির কারণ ব্যাখ্যা করে কে এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বেশি থাকে।

তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে নয়টি ওয়ার্ডের সদস্য, তিনটি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য এবং চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি থাকে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশি তৎপরতা প্রয়োজন হয়। তবে প্রস্তুতির জন্য সময় নেওয়া হলেও আগামী বছরের শুরুর দিকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন কমিটির সভাপতি।

 

এদিকে বৈঠকে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।

এ ছাড়া গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টির বিপরীতে জামানত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার চলমান প্রকল্পগুলোর তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ সময় কয়েকজন সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতির উদ্দেশ্যে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল বলে তারা অভিযোগ করেন। এ ধরনের প্রকল্প চিহ্নিত করার জন্য মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নিতে বলেন তারা।

জবাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, কিছু প্রকল্পের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) কাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির উদ্দেশ্যে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেগুলো বাদ দিয়ে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা মত দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাটসহ যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ নির্দেশনা মানতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে নির্মাণকাজের গুণগত মানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।

বৈঠকে কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করারও সুপারিশ করা হয়।

পাশাপাশি নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আর্সেনিকযুক্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান অংশ নেন।
 

সর্বাধিক পঠিত