মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ঢাকার ৭ ভূমি অফিসে তদবির ঠেকাতে লটারিতে বদলি
daily-fulki

ঢাকার ৭ ভূমি অফিসে তদবির ঠেকাতে লটারিতে বদলি


স্টাফ রিপোর্টার : বদলি নিয়ে তদবির, প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ বন্ধ করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলার সাতটি ভূমি অফিস ও রাজস্ব সার্কেলে কর্মরত নয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে। এর ফলে কে কোন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণে তদবির বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হয়নি।


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত লটারি অনুষ্ঠিত হয়। লটারির মাধ্যমে তাদের নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়।
লটারির আওতায় থাকা কর্মস্থলগুলো হলো—সাভার উপজেলা ভূমি অফিস, ধামরাই উপজেলা ভূমি অফিস, আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল, উত্তরখান ভূমি অফিস, বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কেরাণীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস এবং জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস।


বদলি হওয়া নয়জনের মধ্যে রয়েছেন দুজন চেইনম্যান, তিনজন অফিস সহায়ক, একজন মালি, একজন অফিস সহকারী, একজন সার্টিফিকেট সহকারী ও একজন প্রধান সহকারী।
ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভূমি অফিসে নাগরিকদের সরাসরি বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে হয়। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও স্বার্থের সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে বদলির সময় তদবির ও প্রভাব বিস্তারেরও সুযোগ তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘ভূমি অফিসের মতো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যায় তদবির ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই আমরা লটারির পথ বেছে নিয়েছি। এতে কারও প্রতি পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না।’


তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কর্মস্থলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এতে সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন বলে আশা করছি।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার ফলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে ভূমি সেবায় অনিয়ম ও তদবিরের সুযোগ কমবে। নাগরিকদের জন্য নিরপেক্ষ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
 

সর্বাধিক পঠিত