গবি প্রতিনিধি: সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগ থেকে মিছিল বেরিয়ে প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের সভাকক্ষে অবস্থান করে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা, 'শিক্ষকের গায়ে হাত কেনো প্রশাসন জবাব চাই', শিক্ষকের অপমান মানি না মানবো না'সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান তারা।
এরআগে, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে বহিরাগত দুই ব্যক্তিকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করেন শিক্ষার্থীরা। আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুই বহিরাগতকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এসময় ওই দুই অভিযুক্তকে পুলিশের গাড়িতে উঠানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর করতে থাকে অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের। একপর্যায়ে মারামারি থামাতে গেলে রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর হাসিব হাইদার রোমান মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের বিভাগের একজন শিক্ষককে মারধরের শিকার হতে হয়েছে-এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। একজন শিক্ষককে এভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনায় আমরা কোনোভাবেই নীরব থাকতে পারি না। আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং তদন্তে যাঁরা দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ভুক্তভোগী শিক্ষক হাসিব হায়দার রোমান বলেন, 'পুলিশ অভিযুক্তদের নিয়ে নিচে নামার পর টেনিস কোর্টে শিক্ষার্থীরা যখন তাঁদের মারধর শুরু করে, তখন তা ফেরাতে গেলে কারও ঘুষি আমার মাথার পেছনে লাগে। আমার সঙ্গে পুরো প্রক্টরিয়াল বডি ছিল। এভাবে চলতে থাকলে আমরা প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্ব পালন করতে পারব না। আমরা নিজেরাই যদি নিরাপদ না থাকি তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, 'শিক্ষার্থীদের কাজ ক্লাসরুম, ল্যাব ও গবেষণা করা। মারামারি, হুমকি-ধমকি দেওয়া শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। এটি অবশ্যই নৈতিক মূল্যবোধের অভাব।’
এ বিষয়ে প্রক্টর কনক চন্দ্র রায় বলেন, 'রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ২৪ তারিখে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক অনন্ত কুমার দাশকে হেনস্তা এবং ২৮ তারিখে সহকারী প্রক্টর হাসিব হায়দার রোমানের ওপর হামলার ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডি প্রাথমিক তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্য রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, 'রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এসে আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।'
