গবি প্রতিনিধি : গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বহিরাগত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুজনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করেন। আটক ব্যক্তিদের একজন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের ষষ্ঠ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর একটার দিকে ওই নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে বহিরাগত দুই ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসেন। পরে তাঁরা ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে নিয়ে যান।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নিজেকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অপর ব্যক্তি মগবাজারে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন।
অভিযুক্ত তুহিন বলেন, ‘আমার সঙ্গে ওর পরিচয় সাড়ে পাঁচ বছরের। এর পরে ওর সঙ্গে আমার সমস্যা চলতে থাকে। সেই সমস্যা সমাধান করার জন্য চতুর্থবারের মতো আজ এখানে আসি। তিনবার আসতে বললেও চতুর্থবার আমাকে আসতে না বললেও আমি আসি। একপর্যায়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালে তখন আমি ওর ছবি-ভিডিও ওর পরিবারকে জানানোর কথা বলি। এর একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাকে ধরে নিয়ে আসে।’
তুহিনের সাথে আসা আটক ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইসান বলেন, ‘তুহিনের সঙ্গে আমার অনলাইনে পরিচয়। দুই দিন কথা হয়েছে। তখন আমাকে বলে এখানে তুহিনের বান্ধবী আছে, তার সঙ্গে দেখা করতে আসবে। সেই সুবাদে আমি এখানে আসি। এ ছাড়া অন্য কিছু জানি না।’
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কনক চন্দ্র রায় বলেন, 'আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে দুই বহিরাগত ইইই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করেন। এর আগেও তাঁরা রাস্তাঘাটে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।
এ সময় ইইই বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা দুই বহিরাগতকে আটক করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের হেফাজতে নেয়। আমরা ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ইতিমধ্যে নিরাপত্তা চেয়ে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সেই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সাভার থানার সঙ্গে যোগাযোগ করি।
গণ বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু আশুলিয়া থানার অন্তর্ভুক্ত, তাই আশুলিয়া থানার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। পরে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুই বহিরাগতকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগী ও তাঁর ভাইকে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করতে বলেছি। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে যথাযথ সহযোগিতা করা হবে।
