বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আশুলিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, নেই মালিকপক্ষের নাম
daily-fulki

আশুলিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, নেই মালিকপক্ষের নাম


স্টাফ রিপোর্টার : আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অপরাধজনক নরহত্যার মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় প্রীতি গ্রুপের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হলেও কারখানার মালিকপক্ষের কাউকে আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তাজনিত বড় ধরনের দুর্ঘটনার দায় কি শুধু বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপরই বর্তাবে।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে প্রীতি গ্রুপের জিএম মো. সোহেল রানা, এজিএম মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন, কারখানার ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজীব হোসেন এবং দুই হেলপার মো. আল আমিন ও মো. এনামুলকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।


জানা গেছে, প্রীতি গ্রুপের সিইও পদে রয়েছেন রাজীব আহমেদ তালুকদার পিয়াল। তার মা পারভীন তালুকদার প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর এবং রেজিন আহমেদ তালুকদার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তবে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলায় মালিকপক্ষের কারও নাম নেই।


প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, রাজীব আহমেদ তালুকদার পিয়াল কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তার মা পারভীন তালুকদার সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে মামলায় তাঁদের কাউকেই আসামি করা হয়নি।


জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, কোনো কারখানায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু বেতনভুক্ত কর্মচারীদের দায়ী করা যৌক্তিক নয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মালিকপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে যাদের দায়িত্বে সরাসরি অবহেলার তথ্য পাওয়া গেছে, মামলায় আপাতত তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মালিকপক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।


তিনি বলেন, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে যাদের গাফিলতি বা সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সর্বাধিক পঠিত