রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা: চার শিক্ষার্থীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
daily-fulki

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা: চার শিক্ষার্থীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা


খুলনা সংবাদদাতা : চুরির অভিযোগ তুলে খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন খুলনার হরিণটানা থানায় হত্যা মামলাটি করেন।

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।


ওসি বলেন, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতেই ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।
নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।


আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী আবাসিক হলের (খাজা হল) পেছনের ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে থাকতেন। গত শুক্রবার রাতে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পড়ে যান বলে আশপাশের ছাত্রদের ভাষ্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।


ওই মেসের পাশের একটি বাড়ির এক নারী বলেন, ছাত্রদের কাছে তিনি শুনেছেন, শুক্রবার রাতে আজমুল এক ছাত্রের মিল (খাবার) খেয়ে ফেলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়া নিয়ে কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন। দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। এরপর ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ পান।


আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন শনিবার হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাত একটার দিকে কয়েকজন ছেলে কল করে বলে, ‘আপনার ছেলে আমাদের জিনিস চুরি করছে, এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে।’ এরপর তিনি খুলনা এসে প্রথমে মেসে যান। পরে সেখান থেকে হাসপাতালে গিয়ে ছেলে লাশ দেখতে পান। 


আজমুলের হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আজমুল যে মেসে থাকতেন, সে ভবনে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকতেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গে আজমুলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। তাঁর প্রতি অনেক ক্ষোভ ছিল। বিভিন্ন সময় অনেকের জামা, গেঞ্জিসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
 

সর্বাধিক পঠিত