স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার নতুন এই বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে জারি হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলমান রয়েছে এবং দুপুরের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন এই বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানালেও অনুমোদনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এটি প্রকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া শেষে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের এই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির হার ও গ্রেডভিত্তিক বিন্যাস:
নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে এসব গ্রেডে মূল বেতন আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে-স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে; অর্থাৎ জুলাই মাসকে কার্যকারিতার তারিখ ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে দেশের প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতার ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়েই মূলত নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে এবং নতুন এই কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানো হয়েছে।
