বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
শেষ হচ্ছে জাকসুর মেয়াদ, পরবর্তী নির্বাচনের বাজেট নেই
daily-fulki

শেষ হচ্ছে জাকসুর মেয়াদ, পরবর্তী নির্বাচনের বাজেট নেই


জাবি প্রতিনিধি : একদিন পরই শেষ হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর বর্তমান কমিটির মেয়াদ। নিয়ম অনুযায়ী, মাসের শেষ দিকে পরবর্তী জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি।
ফলে নির্ধারিত সময়ে ১১তম জাকসু নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


‎এদিকে, এবার জাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারেও জাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমনকি নির্বাচন ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও এখন পর্যন্ত (বুধবার বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখার সময়) কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
‎‎সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে নির্বাচন দেরি হতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে বাড়তি প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় যুক্ত হওয়ায় প্রশাসন নতুন করে উদ্যোগ নিতে অনাগ্রহী হতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।


‎তবে বর্তমান জাকসু নেতারা বলছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি না করে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তারা।

যেকোনো মূল্যে নির্বাচন চান বর্তমান কমিটির নেতারা


১১তম জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বর্তমান সংসদ। গত ৭ সেপ্টেম্বর জাকসু ভবনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।


‎‎দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ে জাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সুস্পষ্ট নির্বাচনী ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষে দীর্ঘ সময়ের নেতৃত্বশূন্যতা এড়াতে দ্রুত তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিগ্রহণ, জাকসুর গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জাকসুকে আরো কার্যকর করতে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করা।
‎তবে অভিযোগ রয়েছে, জাকসুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি বর্তমান জাকসু নেতারাও।
‎বাজেট হয়নি, তফসিল নিয়েও অনিশ্চয়তা


২০২৫ সালের জাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রাথমিকভাবে এক কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছিল।


পরে সম্ভাব্য ব্যয় বেড়ে আনুমানিক দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি দাঁড়ায়। তবে এবার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি।
‎এ কারণে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, বাজেটের বিষয়টি সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তফসিল ঘোষণা থেকে পিছিয়ে যেতে পারে। তবে অন্যদের মতে, বাজেটের এই ঘাটতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে ঘাটতি বাজেট থেকে নির্বাচনের ব্যয় মেটাতে পারে।


‎জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান জাকসুর মেয়াদ শেষ হবে। দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার আগে আমরা জাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং পরবর্তী ১১তম জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছি।’ 


এ দাবিতে উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাকসু জিএস আরো বলেন, ‘নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নির্বাচনী ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, দ্রুত তফসিল ঘোষণা, প্রয়োজনীয় নির্বাচন কমিটি গঠন, আর্থিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিগ্রহণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময়ের সুযোগ সহজ করার দাবি জানিয়েছি। নিয়মিত জাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব, প্রশাসনের জবাবদিহি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরো শক্তিশালী করবে।


‎জাকসু নির্বাচনে বাজেট প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সোহেল রানা বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনের জন্য কোনো বাজেট রাখা হয়নি। যদি নির্বাচন হয়, সেটা ঘাটতি বাজেট থেকে হবে।’


‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বক্তব্য জানতে ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

সর্বাধিক পঠিত