মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
জাবির তরুণদের ভাবনায় দেশপ্রেমের তিন অনুষঙ্গ-মা, মাটি ও মাতৃভাষা
daily-fulki

জাবির তরুণদের ভাবনায় দেশপ্রেমের তিন অনুষঙ্গ-মা, মাটি ও মাতৃভাষা


জাবি প্রতিনিধি : ‎জন্মদাত্রী মা, জন্মভূমি রূপসী বাংলা এবং মায়ের ভাষা- এই তিনের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধই খাঁটি দেশপ্রেমের ভিত্তিপ্রস্তর। এই মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজ বিনির্মাণে সক্রিয় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। 


সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় দিনের মতো বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তরুণদের কণ্ঠে উঠে আসে এমনই অভিন্ন প্রত্যয়।
‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রধান, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পরিচালক জাকারিয়া জামান।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, নিজের শেকড়ের প্রতি যার গভীর টান নেই, তার পক্ষে দেশকে ভালোবাসা সম্ভব নয়। সন্তান যেমন মায়ের ঋণ শোধ করতে পারে না, তেমনি দেশের মাটি ও ভাষার মর্যাদাও আমাদের আজীবন সমুন্নত রাখতে হবে। তরুণদের ইতিবাচক চিন্তা ও সৃজনশীলতাই একটি রাষ্ট্রকে বিশ্বদরবারে সম্মানের আসনে পৌঁছে দিতে পারে।


‎তিনি আরও বলেন, ‘একটা শিশুর বিকাশ ছোটবেলা থেকেই তার পরিবেশ আর মায়ের স্নেহ থেকে শুরু হয়। মায়ের কাছ থেকেই সে প্রথম ভাষা শেখে, আর সেই ভাষার মধ্য দিয়েই তার শেকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে। তাই মা, মাটি ও মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা মানুষের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে হবে।’


সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, ‘মা, মাটি ও মাতৃভাষা-এই তিন অনুষঙ্গ আমাদের জাতীয় পরিচয় ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তরুণ প্রজন্মকে শুধু দেশপ্রেমের কথা বললেই হবে না, তাদের দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। মানবিকতা, দায়িত্ববোধ, সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চার মধ্য দিয়েই প্রকৃত দেশপ্রেম গড়ে ওঠে। বসুন্ধরা শুভসংঘ তরুণদের সেই ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরাও শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’


সভায় অংশ নিয়ে জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সানজিদা খানম বলেন, আত্মপরিচয়ের গভীরে মিশে থাকে মা, মাতৃভূমি ও মুখের ভাষা। ক্যাম্পাস জীবন থেকেই নিঃস্বার্থভাবে দেশসেবার মনোভাব গড়ে তোলা দরকার। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে জাবির শুভসংঘের বন্ধুরা।


প্রচার সম্পাদক রিফাত বিন নুর বলেন, সমাজ পরিবর্তনের কার্যকর মাধ্যম হলো ইতিবাচক বার্তা মানুষের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া। তরুণদের দেশাত্মবোধে শানিত করে কল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে আমরা প্রচার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চাই। পাশাপাশি বসুন্ধরা শুভসংঘের শুভ কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের ও দেশের মানুষের কল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করব।


‎সংগঠনটির সদস্য শিবলি খাতুন বলেন, দেশপ্রেম মানে কেবল আবেগের প্রকাশ নয়; বরং দায়বদ্ধতা থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বসুন্ধরা শুভসংঘও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে যাচ্ছে। ভাষা ও মাটির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।


‎অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বসুন্ধরা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক সানজিদা খানম, সাংগঠনিক সম্পাদক পরান চন্দ্র রায়, প্রচার সম্পাদক রিফাত বিন নুর, দপ্তর সম্পাদক কে. এম. জাহিদ বিন খালিদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতারা ফেরদৌস এলসা, সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও বৃত্তিপ্রাপ্ত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


উন্মুক্ত ভাববিনিময় পর্বে তরুণদের দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। পরে অতিথিদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
 

সর্বাধিক পঠিত