সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মাদকসেবন থেকে শুরু করে পরিবেশদূষণ ও অনুমোদনহীন উৎপাদন—এক অভিযানে সামনে এলো জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ। মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাদকসেবনের দায়ে মো. জুয়েল (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই অভিযানে চামড়ার ওয়েস্টেজ দিয়ে অনুমোদনহীনভাবে পোল্ট্রিফিড ও ফিশফিড উৎপাদন এবং টায়ার পুড়িয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই জ্বালানি তৈরির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ধল্লাবাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় মো. জুয়েলকে মাদকসেবনরত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানের পর প্রশাসনের নজর পড়ে পরিবেশ ও উৎপাদনসংক্রান্ত অনিয়মের দিকে। উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়ায় অভিযান চালিয়ে চামড়ার ওয়েস্টেজ ব্যবহার করে অনুমোদনহীনভাবে পোল্ট্রিফিড ও ফিশফিড উৎপাদনের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এখানেই শেষ নয়। একই এলাকায় টায়ার পুড়িয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই জ্বালানি তৈরির অভিযোগে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরিবেশ ছাড়পত্র অর্জন না করা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই অভিযানে মাদকসেবনের ঘটনায় কারাদণ্ড এবং পরিবেশ ও উৎপাদনসংক্রান্ত অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের নজরদারির পরিধিও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে চামড়ার ওয়েস্টেজ ব্যবহার করে ফিড উৎপাদন এবং টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তৈরির মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সরাসরি কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল কোর্টের নেতৃত্ব দেন- সিংগাইর উপজেলার সদ্য যোগদানকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির।
অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির বলেন, মাদক, পরিবেশদূষণ এবং অনুমোদনহীনভাবে উৎপাদনসহ জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
