শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা মরক্কোর, ফিফা বলছে চূড়ান্ত নয় এখনও!
daily-fulki

বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা মরক্কোর, ফিফা বলছে চূড়ান্ত নয় এখনও!


ফুলকি ডেস্ক : ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হবে, তা নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যৌথ আয়োজক দেশ দুটির মধ্যে মরক্কো সম্প্রতি কাসাব্লাঙ্কার উপকণ্ঠে নির্মাণাধীন কিং হাসান টু স্টেডিয়ামকে ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা বলেন, বেনস্লিমান শহরেই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। তার ভাষায়, ‘বেনস্লিমান শহর বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করবে। এটি ভালো লাগুক বা না লাগুক, আর এ নিয়ে কেউ কথা বলতে চাইলে বলুক। শহরটি বেনস্লিমান, স্টেডিয়াম হাসান টু। আর আমি আশা করি, মরক্কোই সেখানে ফাইনাল খেলবে।’

 

তবে মরক্কোর এই ঘোষণার পরই অবস্থান পরিষ্কার করেছে ফিফা। সংস্থাটির এক মুখপাত্র ইএফইকে বলেন, গত ৫ আগস্ট ফিফা যে অবস্থান জানিয়েছিল, সেটিই বহাল রয়েছে এবং ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে সিদ্ধান্ত ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে।

এর আগে মরক্কোকে বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের অধিকার দেওয়ার বিনিময়ে আগামী মার্চের নির্বাচনে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে—এমন দাবিও উঠেছিল। তবে ৫ আগস্ট ফিফা সেই দাবিকে অস্বীকার করে।

 

কাসাব্লাঙ্কার কাছে বেনস্লিমানে নির্মাণাধীন কিং হাসান টু স্টেডিয়ামে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে স্পেনেরও রয়েছে শক্তিশালী ভেন্যু। সংস্কারকাজ শেষ হলে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক ধারণ করা সম্ভব হবে। আর মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর বর্তমান ধারণক্ষমতা ৭৮ হাজার ২৯৭।

 

 

 

 

ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে স্পেনের দাবিও জোরালো। চলতি সপ্তাহে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুয়ান বলেন, ‘আমরা সবাই প্রার্থিতা (আয়োজক স্বত্ব) মেনে নেওয়ার জন্য স্বাক্ষর করেছি... দুর্ভাগ্যজনক যে ফাইনাল ম্যাচটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সেটি পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। পুরুষ ও নারী– উভয় ফুটবলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনেরই ফাইনাল আয়োজন করা উচিত।’

তিন বছর আগে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোকে ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছিল। ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক জোরদারের প্রতীক হিসেবে তখন আয়োজনটিকে দেখা হয়েছিল। কিন্তু ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে মতবিরোধের পাশাপাশি মাদ্রিদ ও রাবাতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কেও আগে থেকেই টানাপোড়েন রয়েছে।

সীমান্ত নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। স্পেনের সেউতা ছিটমহলে মরক্কোর নাগরিকদের সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের ঘটনায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে আনুষ্ঠানিক তথ্য রয়েছে।

২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো হলেও উদ্বোধনী ম্যাচের আয়োজন করবে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ—উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দেশ তিনটি একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের সব ম্যাচই হয়েছিল উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে।

সর্বাধিক পঠিত