মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা : বর্ষা থেকে শরৎ। এই সময়টায় মেগচামী সিংহনাথ বিল হাজির হয় নতুন রূপে।
বিলের পানিতে ফুটে থাকে লাল আর সাদা শাপলা। নির্মল বাতাস আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ডাকে প্রকৃতিপ্রেমীদের। তারাও সাড়া দেয়। দলবেঁধে বিলপারে ভিড় করে দর্শনার্থীরা।
সম্প্রতি সরেজমিন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার এই বিলে গিয়ে দেখা যায় সেখানে পর্যটকের ভিড়। কেউ আসছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে; কেউ আবার প্রিয়জনকে নিয়ে কাটাচ্ছেন একান্ত কিছু সময়।
বিলের পাড়ে সারি সারি বাঁধা। দর্শনার্থীরা নৌকা ভাড়া নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
বিকেলের মৃদুমন্দ বাতাস বইছে। সন্ধ্যা নামলে চাঁদের আলোয় সিংহনাথ বিলের সৌন্দর্য বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
দর্শনার্থীদের জন্য বিলসংলগ্ন সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকান। চটপটি, ফুচকাসহ নানা মুখরোচক খাবারের দোকানগুলো জমজমাট। সব মিলিয়ে বিলপারে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার ও শনিবার দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর থাকে পুরো এলাকা। দলবেঁধে চলে পিকনিক ও আনন্দ আড্ডা।
প্রকৃতির সৌন্দর্য, শাপলার মুগ্ধতা আর নৌভ্রমণের আনন্দ—সব মিলিয়ে মেগচামী সিংহনাথ বিল এখন মধুখালীর মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদের কাছেও হয়ে উঠেছে বিনোদনের অন্যতম পছন্দের স্থান।
এদিকে বিলপারে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদারকি করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সজাগ রয়েছে মধুখালী থানা পুলিশ।
তবে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের দাবি, বিলপারে বসার জন্য সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হলে জায়গাটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশ্রামের জন্য বসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
