মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
বাঁধনের ওপর হামলাকারীর গ্রামের বাড়িতে তালা, আত্মগোপনে পরিবার
daily-fulki

বাঁধনের ওপর হামলাকারীর গ্রামের বাড়িতে তালা, আত্মগোপনে পরিবার


মাদারীপুর সংবাদদাতা : ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুরের ধুরাইল ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে তালা ঝুলছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হামলার আশঙ্কায় মনিরুলের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরুলের শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা বলেন, দেশে থাকাকালে মনিরুল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি দুটি টিনশেডের ঘর। একটি চারচালা ও অন্যটি দোচালা। দুটো ঘরেই বাইরে থেকে তালা ঝুলছিল। বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। আশপাশের পরিবেশও ছিল নীরব-নিস্তব্ধ।

এ সময় পাশের বাড়ির মনিরুলের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম এগিয়ে এসে জানান, মঙ্গলবার সকালে মনিরুলের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। বিদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন বাড়িতে আসার আগেই তারা আত্মগোপনে চলে যান বলে জানান তিনি।

পরে মুখে গামছা দিয়ে মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার সেখানে আসেন। গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে মনিরুলের বিদেশযাত্রা ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

ওবায়দুল হাওলাদার জানান, প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে ২৮ লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়া হয়ে ইতালি যান মনিরুল। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের কনিষ্ঠ ছেলে।

স্থানীয়দের দাবি, দেশে থাকাকালে মনিরুল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

মনিরুলের মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাই গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। তার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়ির একটি দোচালা ঘর জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ইতালি যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণের টাকাও এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেননি মনিরুল।

মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘এখনো বাড়িঘর করতে পারে নাই। ঋণের বোঝা মাথার উপরে। টাকা-পয়সা কামানো বাদ দিয়ে দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে এ দেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সঙ্গে নাই। এমন লোক থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। আমি ওদের সঙ্গে নেই। ওর মা, বোন, ভাই সবাই পালাইছে।’

মনিরুলের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে থাকতেও ছাত্রলীগ করতো। শাজাহান খান আর আসিব খানের লোক ছিল। দল করতো, এখনো বিদেশে গিয়ে দল করে। কিন্তু এখনো বাড়িঘরে কুকুর যাওয়া-আসা করে। বিয়ে-শাদিও করতে পারে নাই। এমন লোকের কারণে আমাদের ধুরাইলের ইজ্জত শেষ হইছে।’

এলাকাবাসীর কয়েকজন বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রীর ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত মনিরুলের শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য মনিরুলকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান কেউ কেউ।

ধুরাইল ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, মনিরুল দেশে থাকাকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তিনি জানেন। বিদেশে গিয়েও তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে শুনেছেন।

তিনি বলেন, ‘এভাবে ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি। সকালে ইনকিলাব মঞ্চের আনাস নামে কিছু লোকজন নিয়ে এসেছিল। তাদের বুঝিয়ে দিয়েছি। তারা সব শুনে বাড়িঘরে হামলা করেনি। তারা মনিরুলের বিচার দাবি করে চলে গেছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমি বাড়িতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছি। সদর থানা পুলিশও বিষয়টি নজরে রেখেছে।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কেউ যেন বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। ওখানের ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করছেন।’

 

সর্বাধিক পঠিত