মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ধামরাইয়ের বেদেপল্লির পাশে ঢাকা জেলা প্রশাসন, ৩০ বছরের অপেক্ষার অবসান
daily-fulki

ধামরাইয়ের বেদেপল্লির পাশে ঢাকা জেলা প্রশাসন, ৩০ বছরের অপেক্ষার অবসান


স্টাফ রিপোর্টার : তিন দশক ধরে স্থায়ী ঠিকানার অপেক্ষায় থাকা ঢাকার ধামরাইয়ের রূপনগর বেদেপল্লির বাসিন্দাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বলে উঠেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে তাদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে খাসজমি। পরিবারের নারীদের স্বাবলম্বী করতে ২৫ জনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। পাশাপাশি পল্লীর অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়নে দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ টাকার বরাদ্দ।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা হস্তান্তর করেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছে বেদে সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি পরিবার। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে থাকলেও তাদের বেশির ভাগেরই ছিল না নিজের জমি কিংবা স্থায়ী ঘর। একসময় নৌকায় ভেসে ভেসে জীবন কাটানো এসব মানুষ স্থলে বসতি গড়ার পরও অন্যের জায়গার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ফলে একটি ঘর থাকলেও সেটিকে নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা বলার সুযোগ ছিল না।


এই পরিস্থিতি বদলাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রূপনগর বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের স্থায়ী বসবাসের জন্য খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পল্লীর নারীদের আয়মুখী কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে ২৫ জনকে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন।


জেলা প্রশাসনের ‘হ্যালো ডিসি’ কার্যক্রমে সেলাই মেশিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন পল্লির নারীরা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ঘরে বসেই আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নারীদের পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতাও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
শুধু আবাসন ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগই নয়, পল্লির সামগ্রিক উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে পদক্ষেপ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাসিন্দাদের জীবনমান বাড়াতে উপজেলা পরিষদের বিশেষ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।


অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, পিছিয়ে থাকা কোনো জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের বাইরে রাখা যাবে না। বেদে সম্প্রদায়ের মানুষও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের স্থায়ী আবাসনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে মূলধারায় নিয়ে আসতে কাজ করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, শুধু সহায়তা দিয়ে মানুষকে নির্ভরশীল করে রাখা নয়, বরং এমন সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন। নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে পরিবারগুলোও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে।


জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রূপনগর বেদেপল্লি পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। প্রায় ৩০ বছর পর কোনো জেলা প্রশাসকের ওই পল্লিতে সরেজমিনে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে এটিকে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরিদর্শনের সময় তিনি বেদেপল্লির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব, সন্তানদের পড়াশোনা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তখনই স্থায়ী আবাসন, আত্মকর্মসংস্থান ও সরকারি সহায়তার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন তিনি।

 

সর্বাধিক পঠিত