মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আশুলিয়ার ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
daily-fulki

আশুলিয়ার ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

 


স্টাফ রিপোর্টার : আশুলিয়ায় বহুল আলোচিত স্বামী-স্ত্রী ও সাত মাসের নবজাতকসহ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটা এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআই-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী এ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


জানা যায়, নিহত নাজমা আক্তারের সাথে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কারখানা ছুটির পর নাজমা খাতুন ও তাঁর স্বামী আলমগীর কবির বাসায় প্রবেশ করেন। ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের আগে কোনো এক সময় আলমগীর কবিরের ডেকে আনা অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাঁদের হত্যা করে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমার প্রসব হওয়া নবজাতকসহ তিনজনেরই নির্মম মৃত্যু হয়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়াসংক্রান্ত বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীরই ওই অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিককে মারধর ও সতর্ক করার জন্য ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে উল্টো তিনজনকে হত্যা করা হয়।


ঢাকা জেলা পিবিআই-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।


নিহতরা হলেন-দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে মোছাঃ নাজমা খাতুন (৩৯) ও তার স্বামী আলমগীর কবির (৪৫)। এরমধ্যে নাজমা খাতুন স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং আলমগীর পেশায় একজন পান-সিগারেট বিক্রেতা ছিলেন। নাজমা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।


এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ায় হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ওই ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে তাদের অর্ধগলিত মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন মোছাঃ শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পিবিআই ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং সম্পূর্ণ ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
 

সর্বাধিক পঠিত